বর্তমান তারিখ:August 12, 2020

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সিকিউর রাখার ১০ টি কিলার ফর্মুলা

ওয়ার্ডপ্রেস-ওয়েবসাইট-সিকিউর-রাখার-১০-টি-কিলার-ফর্মুলা

ও ইয়া ওয়ার্ডপ্রেস বেবি, ওয়েল ওয়ার্ডপ্রেস ‘CMS’ ব্যাবহার করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলাটা ঠিক যতটা সহজ – ওপর দিকে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট হ্যাকার দের থেকে সিকিউর রাখাটাও কিন্তু ঠিক ততাতাই কঠিন!

এবং আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট ব্লগ ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাবহার করে তৈরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয়ে ধ্যান রাখতে হবে।

আন্ড ইয়া – ইউ গট মাই পয়েন্ট আজকের আর্টিকেল ও এই টপিকের উপরে – আজ আপনাদের সাথে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সিকিউর রাখার মারাত্তক কার্যকারী ১০ টি কিলার টিপস শেয়ার করবো, যার ফলে আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি অনেক টাই বেটার করে নিতে পারবেন!

ওকে, তাহলে চলুন যেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে নিতে পারবেন, সাথেই থাকুন…

বেটার হোস্টিং কোয়ালিটি

দেখুন ব্রাদার আমরা স্বাভাবিক ভাবেই নিজেরা এক একটা বড় বড় ভুলের উদাহরন, এবং আমাদের সেই ভুলের মাঝে এই ভুল টা মারাত্তক বেশি রকম বাজে, অর্থাৎ আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এখন আপনার তার জন্য অবশ্যই একটা ডোমেইন এবং হোস্টিং এর প্রয়োজন পড়বে।

এবং হ্যাঁ, ঠিক তখনই আমরা সব থেকে বড় ভুল টি করে থাকি – অর্থাৎ অল্প টাকায় বাজে কোয়ালিটির হোস্টিং এর সাথে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করে থাকি। যা আপনার ওয়েবসাইটের স্বাস্থ্যর জন্য মারাত্তক বাজে হতে পারে।

কিভাবে – বলছি বিস্তারিত

প্রথমত আপনি যখন অল্পদামে হোস্টিং নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন, তার মানে হচ্ছে আপনি শেয়ার হোস্টিং এর সাথে যাচ্ছেন, এবং হ্যাঁ শেয়ার হোস্টিং ব্যাবহারে আপনাকে প্রতিনিয়ত বাজে সময়ের মধ্যে পড়তে হবে।

উদাহরনঃ ওয়েবসাইট ডাউন থাকা, ওয়েবসাইট বাজে পারফর্ম করা, ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড কমে যাওয়া, একটু বেশি ওভার লোড হলে ওয়েবসাইট ক্রাশ করা ইত্যাদি, ইত্যাদি!

এবং সব থেকে বাজে যে বিষয় টা হচ্ছে, শেয়ার হোস্টিং ব্যাবহার করা মানেই – আপনি কিছু না করা শর্তেও অনেক সময় আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যেতে পারে, হ্যাঁ ভাই এখানেই কিন্তু আসল গল্প।

দেখুন শেয়ার হোস্টিং অর্থাৎ একটি সার্ভার কে আপনি সহ আপনার মত আরও অনেক কে ভাগ করে ব্যাবহার করতে দেওয়া হচ্ছে – ওয়েল এটা তো খুব ভালো কথা, যাদের বাজেট নেই তাদের জন্য শেয়ার হোস্টিং খুব’ই গুড চয়েজ।

কিন্তু সমস্যায় আপনি ঠিক তখনই পড়বেন, যখন সেই একটি সার্ভারে থাকা অন্য কারো ভুলের মাশুল আপনাকে গুনতে হবে, কিভাবে?

আপনি যেহেতু শেয়ার হোস্টিং ব্যাবহার করছেন – অর্থাৎ একই সার্ভারে অনেকেই ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যাবহার করছেন। এখন সেই সার্ভারে থাকা অন্য কোন ওয়েবসাইট কোন স্পেসিফিক কারনে হ্যাক হয়ে গেল। তখন কিন্তু মশাই আপনিও বিপদে পড়তে পারেন।

তার কারন একই সার্ভারে থাকা যে কোন একটি ওয়েবসাইটের আক্সেস যদি হ্যাকার পেয়ে যায় – তাহলে তখন সেই হ্যাকার, আপনার সার্ভারে থাকা সকল ওয়েবসাইটের আক্সেস পেতে একটুও টাইম লাগবে না। ফলে অন্য কারো ভুলের মাশুল আপনাকে গুনতে হতে পারে!

কেননা এমন অনেকেই আছে যারা নাল, থিমস প্লাগিন ইউজ করতে বেশি কম্ফোর্টেবল।

ব্যাপার টা এমন, আপনি নাল থিমস প্লাগিন ব্যাবহার করছেন না ঠিকি, কিন্তু আপনি যেহেতু শেয়ার হোস্টিং ব্যাবহার করছেন, অর্থাৎ আপনি সহ আরও আপনার মত অনেকে একটি সার্ভার ব্যাবহার করেই ওয়েবসাইট তৈরি করেছে।

তার মাঝে এমন কেউ আছে যে তার ওয়েবসাইটে নাল থিমস বা প্লাগিন ব্যাবহার করেছে। এবং নাল থিমস প্লাগিন ব্যাবহার করার জন্য তার ওয়েবসাইট হ্যাক হতে পারে।

এবং হ্যাঁ, তার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়া মানেই কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়ার পসেবিলিটি অনেক টাই থেকে যায়।

তাই সর্বদাই চেস্টা করুন একটু ভালো কোয়ালিটির হোস্টিং এর সাথে গিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবার। এবং সব সময় চেস্টা করুন ভালো হোস্টিং কম্পানি থেকে হোস্টিং নেওয়ার।

হ্যাঁ, এটা ঠিক যে নতুন দের জন্য সব থেকে বেস্ট অপশন হচ্ছে শেয়ার হোস্টিং। ঠিক আছে আপনি শেয়ার হোস্টিং নিয়েই ব্যাবহার করুন কিন্তু ধ্যান রাখুন যেন সেই হোস্টিং কম্পানি অনেক ভালো হয়।

যেমন, bluehost, namecheap, siteground, hostinger মানে বিষয় টা যেন এমন না হয় অল্প দামে হোস্টিং পেয়ে কোন এক অপরিচিত জায়গা থেকে হোস্টিং নিয়ে বসেন। ওয়েল, ব্রো তাহলে গল্প টা বুজলেন তো কেন আপনার অবশ্যই বেটার হোস্টিং এর সাথে যাওয়া উচিৎ!

ইউজ স্টং পাসওয়ার্ড আন্ড ইউজার নেম

ব্যাপার টা প্রচণ্ড রকম হাস্যকর, আপনারও যেনে হাসি পাবে যে মোস্ট অফ দা ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়ার পিছে যার অবদান সব থেকে বেশি তিনি হচ্ছেন আপনার ওয়েবসাইটের ইউজার নেম ও আপনার ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড!

সাধারনত এমন টা আমরা সবাই করে থাকি, যেমন আপনার ওয়েবসাইটের নাম ধরে নেওয়া যাক “example.com” এবং আপনার ওয়েবসাইটের নাম যেহেতু এক্সাম্পেল ডট কম সেই সুত্রপাতে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ইউজার নেম রাখলেন ” exampl475, example#$48, example আপনার নাম, বা Admin,login,administrator,Webmaster, ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের ইউজার নেম এরকম কিছু রাখেন তাহলে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়ার ৯০% সম্ভাবনা থেকে যাবে।

সর্বদাই চেস্টা করুন ইউনিক ও আনকমন ইউজার নেম রাখার আপনার ওয়েবসাইটের জন্য।

এখন আসি ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড এর বিষয়ে, ওয়েল বুজলাম আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ইউজার নেম অনেক টা ইউনিক রেখেছেন, বাট গল্পে ভুল করেছেন অন্য যায়গাতে গিয়ে।

আপনি আপনার ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড একদম মারাত্তক বেশি দুর্বল রেখে ফেলেছেন যেমন, pasword, password, passyourname, pass1234, passadmin, password3245, rootadmin123, example12345, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

ব্রাদার আপনি যদি ভুলেও এরকম কমন টাইপ এর পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করেন তাহলে ধরে নিবেন যে কোন সময় আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

সব সময় চেস্টা করুন স্টং পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করার, যা কোন ভাবেই গেস করা পসেবল না।

লিমিট লগিন অ্যাটাক

ধরে নিন, আপনার ওয়েবসাইটে এসে কেউ একের পর এক আপনার ওয়েবসাইটে লগিন করার চেস্টা করছে, এবং দেখা যাবে কখনও বা কখনও সে আপনার ওয়েবসাইটে লগিন ও করে ফেলতে পারে।

এটা তো গেল কোন মেনুয়ালি’র গল্প অর্থাৎ কেউ “person” আপনার ওয়েবসাইটের লগিন পেজে গিয়ে বার বার লগিন করার চেস্টা করছে।

কিন্তু এখানে এক নিমিশেই গল্প ঘুরে দাড়াতে পারে, কিভাবে – দেখা গেল আপনার ওয়েবসাইটে বার বার ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ও ইউজার নেম দিয়ে লগিন করবার জন্য হ্যাকার একটি BOT কে কাজে লাগিয়ে রেখেছে।

অর্থাৎ BOT এসেই আপনার ওয়েবসাইটে বার বার লগিন করার চেস্টা করছে। যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইট লগিন লিমিট না করে রাখেন তাহলে আর কি যে কোন টাইমে আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যেতে পারে ও আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের আক্সেস হ্যাকার এর হাতে চলে যেতে পারে।

তো এখন প্রস্ন হচ্ছে, কিভাবে আপনার ওয়েবসাইটের লগিন লিমিট করে রাখবেন? খুব সহজ উত্তর আপনি প্লাগিন ব্যাবহার করেই খুব সহজে লগিন লিমিট করে রাখতে পারবেন।

লগিন লিমিট করবার জন্য Wordfence প্লাগিন টি ব্যাবহার করতে পারেন। এবং সব সময় চেস্টা করবেন ওয়ার্ডপ্রেস লগিন লিমিট করার ক্ষেত্রে ৩ এর থেকে বেশি টাইম লগিন করতে দিবেন না।

অর্থাৎ ৩ এর বেশি যদি কেউ আপনার ওয়েবসাইটে এসে লগিন করার চেস্টা করে তাহলে সাথে সাথে তার আইপি ব্লক করে দেওয়া হবে।

হাইড লগিন পেজ

এতো কিছু না করে আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের লগিন পেজ টাই টোটালি হাইড করে রাখেন তাহলে বিষয় টা কেমন হবে।

সাধারনত ওয়ার্ডপ্রেস এর লগিন পেজ এরকম হয়ে থাকে “example.com/wp-admin” এবং এটা সবার’ই জানা। এবং যে কেউ চাইলেই আপনার ওয়েবসাইটের লগিন পেজে গিয়ে অ্যাটাক করতে পারে।

কিন্তু কেমন হবে যদি আপনি আপনার এই লগিন পেজ টাকেই হাইড করে নিজের মত করে ফেলেন – যেমন আগে আপনার ওয়েবসাইটের লগিন URL ছিল এমন “example.com/wp-admin” এবং আপনি হাইড করে আপনার লগিন পেজের URL “example.com/unique” তাহলে বিষয় টা কি দাঁড়ালো?

কেউই আপনার লগিন পেজে আর আক্সেস করতে পারবেনা, কারন আপনি আপনার লগিন পেজ কমপ্লিটলি হাইড করে রেখেছেন – যেহেতু আপনি আপনার লগিন পেজ হাইড করে রেখেছেন সেহেতু কেউ চাইলেই কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটে গিয়ে লগিন করতে পারবেনা।

ওয়েবসাইটের লগিন পেজ হাইড করবার জন্য আপনি সিম্পলি WPS Hide Login প্লাগিন টা ইন্সটাল করে নিন। ব্যাস তারপর আপনার ইচ্ছা মত লগিন পেজের URl পরিবর্তন করে নিন।

ডোন্ট ইউজ নাল থিমস, প্লাগিন

হ্যাঁ, আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে নাল, থিমস বা প্লাগিন ব্যাবহার করেন তাহলে ধরে নিবেন আপনি আপনার ওয়েবসাইটের আক্সেস অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

তাই সর্বদাই চেস্টা করুন নাল,থিমস প্লাগিন ব্যাবহার না করার – আপনার বাজেট না থাকলে আপনি ফ্রী থিমস অথবা প্লাগিন এর সাথে যেতে পারেন। বাট ভুলেও নাল থিমস বা প্লাগিন এর সাথে যাবেন না।

ব্রো মনে রাখবেন ফ্রীতেই কিন্তু অনেক কিছু ভালো পাওয়া যায়, প্রাথমিক অবস্থায় আপনি ফ্রী থিমস প্লাগিন এর সাথেই যান, তারপর যখন আপনার রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে তখন আপনি পেইড থিমস বা প্লাগিন এর সাথে যাবেন।

কিন্তু যদি নাল, থিমস বা প্লাগিন ইউজ করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তো থেকেই যাবে, এবং তার সাথে এমন ও হতে পারে যে – আপনি সব কিছু করছেন কিন্তু আপনার কাজের ফলাফল অন্য কেউ নিয়ে নিচ্ছে।

যেমন আপনি নাল, থিমস প্লাগিন ইউজ করে আপনার ওয়েবসাইট একটি বেটার পজিশনে নিয়ে গিয়েছেন এবং তারপর আপনি দেখলেন এই অবস্থায় আপনার যেমন ইনকাম হওয়ার কথা তা হচ্ছে না।

কিন্তু কেন, তার কারন আপনি যেহেতু নাল, থিমস প্লাগিন ইউজ করছেন – আর আপনার সেই ব্যাবহার ক্রিত থিমস বা প্লাগিনে ম্যালিসিয়াস কোড ইঞ্জেক্ট করা আছে। ফলে আপনার ওয়েবসাইটের আক্সেস তো হ্যাকার এর কাছে চলে গিয়েছে।

এবং সেই সাথে হ্যাকার আপনার ওয়েবসাইটের অ্যাড ইউনিট পরিবর্তন করে তার অ্যাড ইউনিট বসিয়ে দিয়েছে। ফলে আপনাকে ব্যাবহার করে হ্যাকার ইনকাম করে যাচ্ছে আর আপনি কিছুই পাচ্ছেন না।

এটা তো শুধু মাত্র আপনাকে উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে বলার জন্য বলা হল, এরকম আপনার সাথেও হতে পারে যদি আপনি নাল থিমস, বা প্লাগিন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে।

আপডেট থিম আন্ড প্লাগিন

আপনি সেই পিরামিড এর সময়ে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে থিমস আন্ড প্লাগিন ইন্সটাল করে রেখেছেন তারপর থেকে আর কখনও থিমস বা প্লাগিন আপডেট করবার প্রয়োজন’ই মনে করেন কি!

বাট, হে ব্রো যদি আপনি এমন টা করেন তাহলে অবশ্যই আপনি ঝামেলায় পড়তে পারেন অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

কিভাবে – বলছি, থিমস এবং প্লাগিন এর মাঝে অনেক সময় অনেক রকম ত্রুটি বা বাগ খুজে পাওয়া যায়, এই সকল ত্রুটি গুলিকে হ্যাকার খুঁজে আপনার ওয়েবসাইট পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এবং তারপর আর কি, আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

আর এসকল থিমস বা প্লাগিন এর রেগুলার আপডেট ভার্সন রিলিজ দেওয়া হয় তার কারন থিমস প্লাগিন ডেভলপার- গন থিমস এবং প্লাগিন গুলার বাগ খুঁজে বের করে তারপর সেই বাগ গুলাকে ফিক্স করে দিয়ে থাকে!

তো তাহলে এখন আপনি নিজেই একটু চিন্তা করে দেখুন – আপনি যদি সেই মিশরের টাইমের থিমস বা প্লাগিন ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

তাই সর্বদাই চেস্টা করুন অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার করে হলেও সকল থিমস ও প্লাগিন গুলাকে আপডেট রাখার। এতে করে আপনার ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি কয়েক গুন বেশি বৃদ্ধি করতে পারবেন।

রিমুভ আন আন-অ্যাক্টিভ থিম প্লাগিন

অনেককেই দেখা যায় অপ্রয়জনিয় থিমস বা প্লাগিন ওয়েবসাইতে ইন্সটল করে রাখে – এরকম টা ভুলেও করবেন না! যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আন-অ্যাক্টিভ থিমস অথবা প্লাগিন ইন্সটাল করে রাখেন তাহলে আপনাকে দুটি সমস্যার মাঝে পড়তে হবে।

প্রথম – আপনার ওয়েবসাইটের স্পীড ও পারফর্মেন্স অনেক টা কম্প্রোমাইজ করতে হবে, সহজ কথায় আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে আন-অ্যাক্টিভ থিমস/প্লাগিন ইউজ করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড অনেক টাই বেড়ে যাবে।

দ্বিতীয় – কোন কারন ছাড়াই আপনার ওয়েবসাইটে একের অধিক আন-অ্যাক্টিভ থিমস/প্লগিন ইন্সটাল করে রেখেছেন, এর ফলে হবে কি আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড তো বেড়ে যাবেই সেই সাথে আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও কিন্তু থেকে যাবে।

কারন আপনি অনেক গুলা আন-অ্যাক্টিভ থিমস/প্লাগিন অকারণেই আপনার ওয়েবসাইটে ইন্সটল করে রেখেছেন এবং দেখা গেল সেই থিমস এবং প্লাগিন গুলির মাঝে অনেক ত্রুটি বা বাগ আছে। এবং সেই সুত্রপাতেই হ্যাকার আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক করে ফেলতে পারে। তাই জন্য সব সময় আন-অ্যাক্টিভ থিম/প্লাগিন রিমুভ করে রাখুন আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট থেকে।

ইউজার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখুন

হ্যাঁ, যে কেউ চাইলেই যদি আপনার ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে – তার মানে ধরে নিতে হবে আপনার ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি অনেক খানি দুর্বল।

তবে হ্যাঁ, বড় বড় কম্পানি বা ব্লগে তাহলে কেন ইউজার রেজিস্ট্রেশন অপশন চালু করা, অর্থাৎ যে কেউ ইচ্ছা করলে সেখানে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে কিভাবে?

ওয়েল, তার উত্তর হচ্ছে এসকল বড় বড় ব্লগ বা কম্পানিতে অনেক প্রফেশনাল সিকিউরিটি এক্সপার্ট বা এথিকাল হ্যাকার থাকে। এবং তারাই এ সকল ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি’র উপরে ধ্যান রাখে।

ফলে তাদের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়া, বা আন-সিকিউর হয়ে যাওয়ার কোথাও কোন পসেবেলিটি নেই, বাট তারপরেও অনেক বড় বড় কম্পানি বা ব্লগ মাঝে মাঝেই কিন্তু হ্যাক হয়ে থাকে।

আর এখানে আপনি তো আর কোন প্রফেশনাল সিকিউরিটি এক্সপার্ট না, বা আপনার কাছে কোন প্রফেশনাল এথিকাল হ্যাকার ও নেই, তো সব কিছু আপনার নিজেকেই করতে হবে।

এই জন্য সব সময় ইউজার রেজিস্ট্রেশন অপশন টি আপনার ব্লগে বন্ধ করে রাখবেন। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা বা ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি কয়েক গুন বাড়িয়ে তুলতে পারবেন!

রেগুলার ব্যাকআপ নিন

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের রেগুলার ব্যাকআপ রাখাটা অতান্ত জরুরী, তার কারন কোন কারন বশত যদি আপনার ওয়েবসাইট ক্রাশ করে বা কোন কারনে যদি আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যায়।

তখন কিভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইট ফেরত পাবেন? ওয়েল, ফেরত পাওয়ার উপায় হচ্ছে ওয়েবসাইট এর ব্যাকআপ রাখা।

আপনার ওয়েবসাইটের যদি আলাদা করে ব্যাকআপ রাখা থাকে তাহলে আপনি যে কোন সময় বা যে কোন সমস্যায় এক কিল্কেই আপনার ওয়েবসাইট রিস্টোর করে নিতে পারবেন।

এই জন্য ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ রাখাটা অতান্ত জরুরী, এবং সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে অনেকে এমন আছে যারা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট কিভাবে ব্যাকআপ করতে হয় এটা তো যানে। কিন্তু কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট রিস্টোর করতে হয় এটা জানেনা।

ওয়েল, টেকনিক্যাল টার্মে না গিয়ে সহজ ভাষায় বলি, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ব্যাকআপ নেওয়া বা রিস্টোর করতে না জানলেও চলবে আপনি জাস্ট প্লাগিন ব্যাবহার করেই আপনার ওয়েবসাইটের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য UpdraftPlus প্লাগিন টা ইউজ করতে পারেন – তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাকআপ নেওয়া ও রিস্টোর করাটা আপনার কাছে জলের মত সহজ হয়ে যাবে।

ইউজ গুড সিকিউরিটি প্লাগিন

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সিকিউর করার জন্য মার্কেটে অনেক টাইপ এর ফ্রী এবং প্রিমিয়াম প্লাগিন পেয়ে যাবেন, এবং বলা বাহুল্য ফ্রী সিকিউর প্লাগিন এর তুলনায় প্রিমিয়াম প্লাগিন এর সার্ভিস অনেক বেশি ভালো।

এবং মজার হলেও সত্য এটাই যে আপনার প্রিমিয়াম প্লাগিন ইউজ করার কোন রকম আবশ্যকটা নেই, আপনি ফ্রী প্লাগিন ইউজ করেন আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট মারাত্তক ভাবে সিকিউর করে তুলতে পারবেন।

আমরা পার্সোনালই আমাদের ব্লগে যে দুটি প্লাগিন ব্যাবহার করি এখানে তারই উল্লেক করছি Wordfence SecurityiThemes Security এই প্লাগিন গুলিতে আপনি একটি প্রিমিয়াম প্লাগিনে যা কিছু পাবেন তার সব কিছুই প্রায় এই প্লাগিন গুলেতে পেয়ে যাবেন।

তবে হ্যাঁ, এটা মাথায় রাখুন এই প্লাগিন গুলার ও প্রিমিয়াম মডিউল আছে, বাট আপনার ফ্রীতেই সব কিছু হয়ে যাবে। আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস সিকিউর করবার জন্য কোন পেইড প্লাগিন ব্যাবহার করার দরকার নেই – জাস্ট গো উইথ ফ্রী প্লাগিন!

তাহলে আজ আমরা কি শিখলাম?

আজ আপনাদের সাথে এই আর্টিকেলে শেয়ার করা হয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সিকিউর করার ১০ টি কিলার ফর্মুলা। আপনিও এই ফর্মুলা গুলি অনুসরণ করে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর সিকিউরিটি দিগুন বৃদ্ধি করে নিতে পারবেন। আশা করছি আজকের আর্টিকেল আপনাদের অনেক কাজে দিবে!

তো বন্ধুরা আপনাদের যদি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কিছু প্রস্ন বা কিছু জানার থাকে তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট করে তা জানাতে পারেন।

ইমেজ ক্রেডিট; By Shahadat Rahman Via Unsplash

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *