বর্তমান তারিখ:May 25, 2020

কম্পিটার সুস্থ রাখার এক — বিস্তারিত গাইডলাইন!

কম্পিটার সুস্থ রাখার এক বিস্তারিত গাইডলাইন

ঠিক যেভাবে আপনি আপনার যত্ন করেন; সেইম ভাবে কি আপনি আপনার কম্পিটারের যত্ন করেন? ওয়েল, যদি আপনার উত্তর না হয়ে থাকে তবে আজকের আর্টিকেল টি আপনার জন্য। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেস্টা করবো কিভাবে নিজের কম্পিটার কে অনত্তকাল ধরে সুস্থ রেখে ব্যবহার করতে পারবেন!

কম্পিটারের প্রয়োজনীয়তা!

একি অদ্ভুত কথা, কম্পিটারের প্রয়জনিতা কি এটা নিয়ে আর নতুন করে বলার কিছু আছে নাকি? না ব্রাদার নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু চলুন এখন কিছু পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখে নেওয়া যাক আপনার কাছে একটি কম্পিটার থাকা সর্তেও যদি আপনার কম্পিটার টি অকেজো হয়ে যায় তখন – আপনার ঠিক কিভাবে কম্পিটারের প্রয়জয়নিয়তা পড়তে পারে।

ব্যাপার টা মোটেও হাস্যকর নয়, আর যদি আপনি আমার মত একজন টেক পোকা হয়ে থাকেন তাহলে তো কোন কথাই নেই, আপনি খুব ভালো করেই বুজবেন হঠাৎ হঠাৎ করে কম্পিটার অকেজো হয়ে যাওয়ার প্যাঁরা। ধরুন আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু করছেন, হতে পারে সেটা আর্টিকেল লেখা, কিংবা কিছু রিসার্চ করা, বা কোন ভিডিও ইডিট করা, বা অন্য কিছু…

কিন্তু, আপনি দেখলেন হঠাৎ করে কাজ করতে করতে আপনার কম্পিটার দম ছেড়ে দিছে! আপনার কম্পিটার বলে উঠছে (ছেড়ে দে বাপ আমাকে দিয়ে আর হবে না) তখন আপনার কেমন লাগবে বলুন এবং সেই মুহূর্তের কথা ইম্যাজিন করুণ। হি,হি আমি জানি মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। আর হ্যাঁ আসলে আপনি ঠিক তখনই রিয়েলাইজ করতে পারবেন আপনার কম্পিটার এর ভুমিকা আপনার লাইফে কততুকু ও আপনার লাইফে কম্পিটারের প্রয়োজনীয়তা ঠিক কততুকু!

ওয়েল, আপনি যেহেতু লার্নবিডি’র পাঠক সো আপনি যাতে কখনও এরকম বাজে সময়ে না পড়েন তার জন্য আপনার সাথে কিছু টিপস শেয়ার করবো। যার ফলে আপনি নিজের কম্পিটার কে যুগ — থেকে যুগান্তর সুস্থ রাখতে পারবেন।

কম্পিটার অসুস্থ হওয়ার কারন ও কিভাবে কম্পিটার সুস্থ রাখা যায়…

ওয়েল, আমি যতই বলি অনন্ত মহাকাল ধরে নিজের কম্পিটার কে সুস্থ রাখতে পারবেন, আসলে বাস্তবতা তা নয়। ইলেক্ট্রনিক জিনিসের উপর কোন ভরসা নেই, এই ভালো এই খারাপ। তবে হ্যাঁ আমরা চাইলে এই ভালো টাকে আরও কিছুটা ভালো করে ঘষে মেজে নিজেদের মত করে নিতে পারি। ও ফলাফল সরূপ তার থেকে ভালো পারফরমেন্স ও নিজের কম্পিটার ব্যবহার করার এক্সপিরিয়ান্স টা আরও ভালো করে তুলতে পারি। সোজা বাংলায় – কম্পিটারের আয়ু দীর্ঘদিন বাড়িয়ে তুলতে পারি…

কম্পিটার নস্ট হয়ে যাওয়ার প্রধান কারন সমুহ ও প্রতিকার

ওয়েল, আপনি যদি শহরে থেকে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনি জানেন যে শহরে কি রকম লোডশেডিং হয়ে থাকে। আর কম্পিটারের সব থেকে বড় শত্রু হচ্ছে এই লোডশেডিং। যদি আপনার কম্পিটার ব্যবহার করার সময় বেশি বেশি করে লোডশেডিং হয়, তাহলে ধরেই নিবেন আপনার কম্পিটারের আয়ু যদি ১ বছর হয়ে থাকে, তাহলে তাহা কমে ৬ মাস হয়ে যাবে।

হ্যাঁ, আসলে এটা খুব স্বাভাবিক মানে এই লোডশেডিং হওয়াটা, এবং সেই সাথে এই লোডশেডিং এর সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের কম্পিটার ব্যবহার করাটাও কিন্তু স্বাভাবিক। এবং সেই সাথে আমাদের কম্পিটার হঠাৎ হঠাৎ করে নস্ট হয়ে যাওয়া টাও কিন্তু স্বাভাবিক। কিন্তু সব কথার শেষ কথা কি; এর প্রতিকার কি?

সত্যি কথা বলতে প্রতিকার একটাই যদি আপনার বাসায় বা আপনি যে জায়গাতে থাকেন সেখানে যদি অনেক বেশি লোডশেডিং হয় — ও আপনার কাজ যদি ইন্টারনেট ও কম্পিটার রিলেটেড হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটা ইউপিএস ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় হঠাৎ হঠাৎ করে আপনার কম্পিটার অকেজো হয়ে যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন রাস্তা নেই।

আর হ্যাঁ, আর যেটা করতে পারেন তা হচ্ছে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময় বের করে নিতে হবে, অর্থাৎ আপনাকে প্রথমে কিছু দিন ঠিক ভাবে এনালাইস করতে হবে যে কখন বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বা কখন লোডশেডিং কম হচ্ছে। তারপর যে সময় টায় লোডশেডিং কম হয় সেই সময়ে কম্পিটার ব্যবহার করে নেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অন্যথায় দু-দিন পর পর কম্পিটার নিয়ে ডক্টরের কাছে যেতে হবে।

দ্বিতীয় কারন…

কম্পিটার নস্ট হয়ে যাওয়ার প্রধান কারন সমুহ ও প্রতিকার 1

ধুলাবালি, হ্যাঁ এই ধুলাবালি আপনার ত্বকের জন্য যতটা অস্বাস্থ্যকর ঠিক সেভাবেই আপনার কম্পিটারের জন্য ও ধুলাবালি ততটাই অস্বাস্থ্যকর। অনেকে তো যুগ-যুগান্তর কম্পিটারের এর থেকে ধুলাবালি পরিস্কার ই করেনা। ওই যেভাবে আছে সেভাই থাক, সমস্যা কি। ব্রাদার সমস্যা তো আছেই; অনেকের কম্পিটার থেকে মাত্রাধিক নয়েস হয়। এবং সেই নয়েস এর পরিমান টা ঠিক এতটা মাঝে মাঝে মনে হতেই পারে যে আপনি কোন প্লেন এর পাইলট।

হ্যাঁ, ব্যাপার টা ভালো আসলে এক সাথে দুই জিনিসের ফিল নেওয়া যায়, কম্পিটার + প্লেন। যাই হোক এই ধুলাবালি কিন্তু কম্পিটারের প্রচুর ক্ষতি করে। তাই আপনি যদি আপনার কম্পিতার কে নিজের গার্লফ্রেন্ড এর মত করে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই মাঝে মাঝে এই ধুলাবালি পরিস্কার করে নিতে হবে।

আচ্ছা আমি একজ্যাক্ট সময় বলে দিচ্ছি, কখন বা কতদিন পর পর কম্পিটার থেকে ধুলাবালি মুক্ত করবেন — প্রতি ৪/৬ মাস পর পর আপনার কম্পিটার কে সম্ভব হলে একবার নতুন জীবন দিন। অর্থাৎ কম্পিটার খুলে ভালো করে পরিস্কার করে তারপর যদি পারেন তাহলে নতুন করে উইন্ডোজ দিন। তাহলে দেখবেন আপনার কাছে মনে হতে শুরু করবে আপনার কম্পিটারে নতুন জীবন ফিরে এসেছে। আপনার কম্পিটার কোন ভাবেই বলবেনা ছেড়ে দে বাপ আর পারছি না…!

তৃতীয় ও শেষ কারন

কি দরকার আছে বুঝিনা আমি; কেন ব্রাদার কম্পিটার ম্যানুয়ালি বন্ধ করতে কি আপনার খুব বেশি কস্ট হয়, যদি হয় তাহলে আপনার কম্পিটার ব্যবহার করারই দরকার নেই। আচ্ছা একটু উদাহরন দিয়ে বলি অনেকেই এমন আছে যারা কম্পিটার বন্ধ করার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে তাহা মনে করে না। সরাসরি কম্পিটারের পাওয়ার কেবল টেনে খুলে দেওয়া কে সঠিক ভাবে কম্পিটার বন্ধ করবার পদ্ধতি মনে করে থাকে।

না এভাবে কম্পিটার কখনই বন্ধ করবেন না, যদি করেন তাহলে আপনার কম্পিটারের আয়ু খুব বেশি দিনের নয়; আপনার কম্পিটার রানিং অবস্থায় এক সাথে অনেক গুলা টাস্ক করতে থাকে, এবং আপনি যদি আপনার কম্পিটার কে সব কিছু বন্ধ করতে বলা ছাড়া হঠাৎ করেই কম্পিটারের পাওয়ার কেবল টা টেনে খুলে ফেলেন, তাহলে আপনার কম্পিটার যে কাজ গুলি করছিলো সেই কাজ গুলি ঠিক ভাবে শেষ করতে পারেনা এবং এই না পারার জন্যই মুলত ঝামেলা গুলা হয়। যেমন- হার্ড ডিস্ক ক্রাশ করা, পাওয়ার সাপ্লাই নস্ট হয়ে যাওয়া, মাদারবোর্ড নস্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি…

তো আপনি যদি আপনার কম্পিটার কে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে বা দেখতে চান তাহলে এই কাজ টি ভুলেও করবেন না; মানে কম্পিটার প্রপার ভাবে বন্ধ না করে কম্পিটারের পাওয়ার কেবল টেনে খুলে দেওয়া। এই কাজ টি ভুলেও করবেন না।

তো সব মিলিয়ে এই ছিল, উপরে বর্ণিত সব গুলা পন্থা যদি আপনি সঠিক ভাবে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারেন তাহলে আশা করছি আপনার কম্পিটার দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারবেন…

Share

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা, আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলা আপনার সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করি...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *