বর্তমান তারিখ:May 25, 2020

পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করছেন, আপনি এই বিষয় গুলি জানেন কি?

পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করছেনতাহলে আপনার এই বিষয় গুলো জানা প্রয়োজন

আপনিও কি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করছেন? আপনি জানেন কি পাইরেটেড উইন্ডোজ আসলে কি? পাইরেটেড উইন্ডোজ বাবহারে আপনি কি ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন?

আপনি যদি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন, এবং না জেনে থাকেন পাইরেটেড উইন্ডোজ আসলে কি, এবং পাইরেটেড উইন্ডোজ বাবহারে আপনি কি ধরনের প্রবলেমে পড়তে পারেন, তাহলে এই আর্টিকেলের সাথেই থাকুন।

এই আর্টিকেলের মাঝে আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, পাইরেটেড উইন্ডোজ কি, পাইরেটেড উইন্ডোজ কেন ব্যবহার করবেন না, এবং পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করলে আপনি কি ধরনের ঝামেলার মাঝে পড়তে পারেন!

পাইরেটেড উইন্ডোজ পরিচিতি

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকেই জানেনা যে উইন্ডোজ ফ্রীতে ব্যবহার করা যায় না, উইন্ডোজ টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করতে হয়। আমরা অনেকেই এটাই জানি লোকাল মার্কেট গুলিতে ৫০ টাকা প্রতি পিস যে উইন্ডোজ গুলি বিক্রি হয় এটাই আসলে উইন্ডোজ, বা উইন্ডোজ এভাবেই কিনে ব্যবহার করতে হয়।

না লোকাল মার্কেট গুলিতে যে উইন্ডোজ এর সিডি/ডিস্ক পাওয়া যায় সব গুলাই পাইরেটেড উইন্ডোজ, অর্থাৎ আসল উইন্ডোজ না, উইন্ডোজ এর হুবহু কপি। তবে আপনি যদি অনেক টেকনিক্যাল পারসন না হয়ে থাকেন তাহলে আপনি পাইরেটেড উইন্ডোজ এবং আসল উইন্ডোজ এর মাঝে কোন পার্থক্য বুজতে পারবেন না।

অরজিনাল উইন্ডোজ ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে টাকা দিয়ে মাইক্রোসফট এর থেকে উইন্ডোজ “কি” কিনে ব্যবহার করতে হবে, তবেই আপনি পরিপূর্ণ সাধ গ্রহন করতে পারবেন অরজিনাল উইন্ডোজ এর।

অনেক এক্সপারট লোক আছে যারা আপনার, আমার জন্য পাইরেটেড উইন্ডোজ বানিয়ে থাকে, অর্থাৎ উইন্ডোজ এর অরজিনাল কপিকে মডিফাই করে, অ্যাক্টিভিশন এর অংশ টা পুরপুরি ভাবে বাদ দিয়ে দেয়, ফলে আপনাকে উইন্ডোজ অ্যাক্টিভ করতে হয়, না এবং আপনি আরামসে উইন্ডোজ ব্যবহার করতে পারেন; আর এটাকেই পাইরেটেড উইন্ডোজ বলে।

পাইরেটেড উইন্ডোজ বাবহারে সমস্যা কি?

সমস্যা কিছুই না, তবে সমস্যায় পড়তে কতখন; কারন আপনার,আমার জন্য যারা অনেক কষ্ট করে উইন্ডোজ মডিফাই করে থাকে, তাদের তো একটা স্বার্থ অবশ্যই আছে, তা না হলে তারা কেন নিজের সময় মেধা সব কিছু নষ্ট করে উইন্ডোজ ক্রাক করবে, বা তাদের লাভ না থাকলে তাদের কষ্ট করে ক্রাক করা উইন্ডোজ সবার মাঝে ব্যবহার করার জন্য দিয়ে দিবে কেন? একটু ভাবুন বুজতে পারবেন।

আপনার জন্য যারা উইন্ডোজ ক্রাক করে থাকে, অর্থাৎ যারা উইন্ডোজ পাইরেটেড করে তাদের এখানে অনেক লাভ আছে, এই যেমন আপনার পারমিশন ছাড়া আপনার তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, আপনার কম্পিটারের সম্পূর্ণ এক্সেস নিয়ে নেওয়া, মোট কথা আপনার সব কিছুই তারা চাইলে দেখতে এবং নিয়ে নিতে পারে।

আর আপনার কম্পিটারে যদি অনেক মূল্যবান কিছু থেকে থাকে, তাহলে তো বুজতেই পারছেন আপনার সাথে কি হতে পারে, এখন এই সময়ে সব কিছুই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হয়ে থাকে, এবং সেই অর্থে আপনার ব্যাংক এর যাবতীয় তথ্য, এবং আপনার অনেক প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপনার পিসিতে থাকা টা খুবই স্বাভাবিক।

এখন হঠাৎ করে যদি একদিন দেখেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এ টাকা নেই, আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট গুলিও নেই, তখন আপনি কি করবেন, তারপর দেখলেন হঠাৎ আপনার কাছে একটি মেইল আসলো এবং আপনাকে বলব আপনার সব কিছু তারা হ্যাক করে নিয়েছে, আপনি যদি আপনার সব কিছু ফেরত চান তাহলে তারা আপনাকে যে সর্ত দিবে মুখ বন্ধ করে শুনতে হবে, এ ছাড়া আর কোন উপাই নেই; তাহলে বুজতে পারছেন, পাইরেটেড উইন্ডোজ বাবহারে আপনি কি ধরনের ঝামেলায় মাঝে ফেসে যেতে পারেন।

তাহলে আপনি কি করবেন এখন?

কি করবেন যদি আপনিও পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন? তাহলে আমি আপনাকে পরামর্শ দিব আপনি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার না করে সরাসরি মাইক্রোসফট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অরজিনাল উইন্ডোজ ডাউনলোড করে ব্যবহার করুন।

আপনি মাইক্রোসফট এর থেকে উইন্ডোজ ডাউনলোড করে ব্যবহার করলে আপনি ১০০% সেভ থাকতে পারবেন, আর সম্ভব হলে একটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

এখন আপনি আমাকে বলতে পারেন দাদা এই না আপনি একটু আগেই তো বললেন যে উইন্ডোজ টাকা দিয়ে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে আমি মাইক্রোসফট থেকে উইন্ডোজ ডাউনলোড করে ব্যবহার করলে তার জন্য কি টাকা দেওয়া লাগবে?

হুম, যদি আপনি উইন্ডোজ অ্যাক্টিভ করে ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই টাকা দিয়ে উইন্ডোজ “কি” কিনে ব্যবহার করতে হবে, আর আপনি যদি না চান যে আপনি উইন্ডোজ টাকা দিয়ে কিনবেন না, ফ্রীতেই ব্যবহার করবেন তাও পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে কিছু অপশন এর এক্সেস দিবে না মাইক্রোসফট, এই যেমন “পার্সোনালাইজেশন,থিম পরিবর্তন, কালার পরিবর্তন ইত্যাদি ইত্যাদি।

এছাড়া আর সব কিছুই কাজ করবে, আর একটা বিষয় আপনি যদি উইন্ডোজ অ্যাক্টিভ না করে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার সামনে “Windows Is Not Active” বলে একটা ম্যাসেজ শো করবে, এই ছাড়া আর কোথাও কোন সমস্যা হবে না।

তো এখন আপনি ভেবে দেখেন আপনি কি করবেন, নিজের প্রাইভেসি অন্নের হাতে তুলে দিবেন নাকি অরজিনাল উইন্ডোজ ব্যবহার করবেন? আর এখন তো বিভিন্ন সোর্স থেকেও অনেক কম দামে উইন্ডোজ “কি” কিনতে পাওয়া যায় আপনি চাইলে কোন সোর্স থেকে উইন্ডোজ “কি” কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

আর না হলে আপনি লিনাক্স ব্যবহার করতে পারেন, লিনাক্স সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, লিনাক্স ব্যবহার করলে আপনাকে তার জন্য একটাকাও খরচ করতে হবে না, ফ্রীতেই সব কিছু পেয়ে যাবেন।

মাইক্রোসফট কেন বন্ধ করে না এই পাইরেটেড উইন্ডোজ?

এখন আপনাদের অনেকের মাথায় এই প্রস্ন টা আসতে পারে, মাইক্রোসফট তো এত বড় কম্পানি তাহলে তারা কেন এই উইন্ডোজ ক্রাক বা পাইরেটেড হতে দেয়, তারা চাইলেই তো এটা বন্ধ করতে পারে।

হ্যাঁ মাইক্রোসফট চাইলেই বন্ধ করতে পারে, তবে বন্ধ করে না তার পিছনেও কিন্তু কারন আছে, এটা মাইক্রোসফট এর একটা মার্কেটিং স্ট্রাটেজি; উইন্ডোজ চায় আমরা উইন্ডোজ এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাই, এবং যখন আমরা সচেতন হব তখন যেন উইন্ডোজ কিনে নিয়ে ব্যবহার করি। আর হ্যাঁ উইন্ডোজ এর পরিকল্পনায় ঠিক হয়ে যায়, তার কারন আপনি যখন উইন্ডোজ এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন তখন কি আর আপনি অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন? অবশ্যই না!

মুলত এটাই মেইন কারন, এই জন্যই মাইক্রোসফট পাইরেটেড বা ক্রাক উইন্ডোজ মার্কেটে আছে জেনেও মুখ বন্ধ করে থাকে। বা বলা চলে এই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি টা ধরে রাখার জন্যই মাইক্রোসফট পাইরেটেড বা ক্রাক উইন্ডোজ বন্ধ করে না।

মূলকথা

তো এতখনে আপনি নিশ্চয় বুজতে পেরেছেন যে পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করাটা কতটা ঝুকিপূর্ণ হতে পারে! সব শেষে আমি আপনাকে এটাই পরামর্শ দিব পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার না করতে, আপনি মাইক্রোসফট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে উইন্ডোজ ডাউনলোড করে নিয়ে তারপর ব্যবহার করুন।

সব শেষে এটাই বলতে চাই, আপনি যদি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করেন তাহলে আপনি আপনার প্রাইভেসি হ্যাকার দের সাথে ভাগাভাগি করে দিচ্ছেন, বা আপনার প্রাইভেসি হ্যাকার এর হাতে দিয়ে দিচ্ছেন। তাই আপনি যদি না চান আপনার প্রাইভেসি কারো সাথে ভাগাভাগি না করতে; তাহলে ক্রাক বা পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার বন্ধ করুন, এবং অরজিনাল উইন্ডোজ ব্যবহার করুন।

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা, আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলা আপনার সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করি...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *