অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলোর এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠার রহস্য কি?

অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলোর এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠার রহস্য কি

গত দু-দিন যাবত কিছুটা কিছুটা সময় বের করে “অসুর” ওয়েব সিরিজ টা দেখছি; উফ সত্যি কথা বলতে সব যেন মাথার উপর দিয়ে গিছে।

যাই হোক আমি কিন্তু আজ কোন মুভি/ওয়েব সিরিজ এর রিভিউ দিচ্ছি না।

আমি উপরে যে ওয়েব সিরিজ টির কথা বললাম এটাও কিন্তু একটা অনলাইন স্টিমিং প্লাটফরম “Voot” এর থেকে সদ্য রিলিজ পাওয়া একটি ওয়েব সিরিজ…

এই যেমন আমি সময় পেলেই প্রচুর ওয়েব-সিরিজ মুভি ইত্যাদি ইত্যাদি দেখি।

হয়তবা আপনিও দেখেন তবে আপনার আর আমার দেখার মাঝে পার্থক্য শুধু এটা থাকতে পারে, আপনি হয়তবা ইউটিউব/বা ক্যাবল টিভিতে সম্প্রচারিত মুভি বা সিরিয়াল দেখেন আর আমি ‘ নেটফিক্স,অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও এসকল অনলাইন স্টিমিং প্লাটফরম গুলিতে গিয়ে মুভি বা ওয়েব সিরিজ দেখি।

হা, হা ব্রাদার এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফরম গুলিতে ভিন্ন স্বাদের ফ্লেভার পাওয়া যায়।

কিভাবে? বিস্তারিত বলছি।

অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রমে ভিন্ন স্বাদের ফ্লেভার পাওয়া!

আপনি যদি “Mirzapur, The Family Man, Made in Heaven, Sacred Games এর মত ওয়েব-সিরিজ গুলি দেখে থাকেন তাহলে আপনি ঠিক বুজতে পেরেছেন আমি এখানে ভিন্ন স্বাদের ফ্লেভার বলতে ঠিক কি বুঝাতে চেয়েছি।

ব্রাদার বিলিভ মি; এসকল ওয়েব-সিরিজ আপনাকে অন্য গ্রহে নিয়ে যাবে; যেখানে আপনি সব কিছু সঠিক ভাবে রিয়েলাইজ করতে পারবেন।

না আছে ফিজিক্স এর বারোটা বাজানো কোন মারামারি, না আছে কোন অদ্ভুত টাইপ এর আজব গাজোব লাভ স্টোরি।

মানে অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলিতে গিয়ে আপনি মুভি বা ওয়েব-সিরিজ দেখতে দেখতে আপনি প্রায় ভুলতে বসে যাবেন, যে এর বাইরে কোন জগত আছে বা থাকতে পারে।

একটা মুভি হতে পারে আপনাকে ২/৩ ঘন্টার জন্য ইন্টারটেইন করতে পারে, তারপর আর কি, কিছুই না।

কিন্তু এসকল স্ট্রিমিং প্লাটফ্রমে গিয়ে আপনি যদি উপরে উল্লেখিত কোন ওয়েব-সিরিজ দেখা শুরু করেন। তাহলে নাওয়া খাওয়া ভুলে শুধু দেখতেই থাকবেন।

আর হ্যাঁ, এসকল ওয়েব-সিরিজ কিন্তু ২/৩ ঘণ্টা লেন্থ এর না; এসকল ওয়েব-সিরিজ দেখতে হলে হাতে সময় নিয়ে তারপর দেখতে হবে, দেখবেন আপনি যখন এই ওয়েব-সিরিজ গুলি দেখবেন তখন অবশ্যই আমার কথা মনে পড়বে, এবং আপনি মনে মনে আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাবেন।

তো এই হচ্ছে এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম এর জাদু!

আপনাকে সম্পূর্ণ রুপে মোহমায়ায় ঘিরে রাখতে পারে অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলির কন্টেন্ট, আর আমি এ জন্যই বলেছি যে অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম মানেই ভিন্ন স্বাদের ফ্লেভার।

অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম এতো রাতারাতি পপুলার হয়ে উঠার কারন কি?

জাদু ব্রাদার জাদু; হ্যাঁ সত্যি তাই — আপনি যদি এসব অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রমে গিয়ে ভুল করেও কোন কনটেন্ট দেখে ফেলেন তাহলে আপনি এই কনটেন্ট গুলির উপরে আসক্ত হয়ে পড়বেন।

আর হ্যাঁ সত্যি কথা এটাই; এভাবেই আপনার আমার, আমাদের সবার ব্রেন ওয়াশ করছে এই অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলো।

আসলে মানুষ এখন আর আগের মত বোকা, সোকা নেই আগে যেমন উড়াধুরা মাইর-পিট না হলে মুভি জমত না, বা আজাইরা টাইপ এর লাভ স্টোরি ছাড়া মুভি জমত না।

এখন বর্তমান সময় জামানা চেঞ্জ হয়েছে এখন মানুষ গল্প, কাহিনি, রিয়্যালিটি, ড্রামা এসব খুঁজে থাকে। এখন আর কেউ ওই আগের জামানার অদ্ভুত টাইপ এর মুভি দেখতে পছন্দ করে না।

আর এই বিষয় টা, এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলা খুব ভালো করেই জানে বা বুজতে পেরেছে।

এবং এ জন্যই এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলি থেকে মাথা নস্ট করে দেওয়ার মত ওয়েব-সিরিজ বা মুভি রিলিজ দেওয়া হয়।

আর রাতারাতি এ সকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলা এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠার কারন এই এটাই।

এরা আমাদের মাইন্ড নিয়ে খেলছে, এবং এই অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলা সত্যি বুজতে সক্ষম যে দর্শক এখন কি চায়; বা দর্শকের চাহিদা কততুকু?

এবং এরা সেই ভাবেই কনটেন্ট তৈরি করে আমাদের উপহার দেয়।

তবে হ্যাঁ, সব কনটেন্ট ই যে খুব বেশি ভালো হয় তাদের, ব্যাপার টা ঠিক তা নয়।

কিছু কিছু বাজে ও হয়। কিন্তু আপনি একবার নিজে থেকে চিন্তা করে দেখুন তো যদি তাদের কনটেন্ট গুলি সত্যিকার অর্থে বাজে হত তাহলে মানুষ তা অবশ্যই বয়কট করতো।

কিন্তু আসল গল্প তো তা নয়! মানুষ যদি তাদের কনটেন্ট গুলি না দেখত, তাহলে তো আর আজ এই অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকতে পারত না। তাইনা?

অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলির ভালো ও বাজে দিক!

ভালো দিক যদি বলা হয় তাহলে আমার মাথায় সর্বপ্রথম যা আসে, তা হচ্ছে তাদের কনটেন্ট, তাদের গল্পের চরিত্র ,সুন্দর এবং সিম্পিল সিনেমাটোগ্রাফি

এবং অভিনয় যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনাকে তাদের কনটেন্ট গুলি দেখতে বাধ্য করে।

এবং হ্যাঁ, অনেক সময় নিজের বাস্তব জিবনের ও অনেক কিছু উপভোগ করা যায় এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রমে থাকা মুভি বা ওয়েব সিরিজ গুলি থেকে।

আর হ্যাঁ সব থেকে ভালো দিক হচ্ছে টাইম কিলার, আপনার সময় যে কিভাবে কেটে যাবে এটা আপনি বুজতেও পারবেন না।

হ্যাঁ, হয়েছে হয়েছে আর কত গুনগান করব; এখন এই অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলির বাজে দিক নিয়েও কথা বলা যাক। এডাল্ট কনটেন্ট – হ্যাঁ এটাই সব থেকে বাজে সাইড বলে আমার মনে হয়।

যদি আপনার বয়স ১৮ বছরের নিচে হয় তাহলে এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলার কনটেন্ট আপনার জন্য না।

কেননা এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলিতে রিলিজ হওয়া কন্টেন্টর গুলির মাঝে প্রচুর “স্লাং’ ব্যবহার করা হয়, ও অনেক সময় এডাল্ট দৃশ্য দেখানো হয়।

এই ছাড়া আর তেমন কিছুই না, যদি আপনার বয়স ১৮+ হয়ে থাকে তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে “নেটফিক্সঅ্যামাজন প্রাইম ভিডিও” এর কনটেন্ট গুলি দেখতে বসে যেতে পারেন।

এই বাইরে আর কোন বাজে দিক নেই এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলার।

আর হ্যাঁ এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম কিন্তু ফ্রী না, এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলির মজা নিতে হলে তাদের থেকে মান্থলি বা ইয়ারলি সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। তারপর আপনি এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলির মজা নিতে পারবেন।

“আঙ্গুর ফল টক” এটা না ভেবে একবার এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম গুলিতে গিয়ে টু মেরে আসুন তাহলে বুজতে পারবেন কেন এসকল অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফ্রম এখন এতটা জনপ্রিয়…

ফিচার ইমেজ ক্রেডিট; Andrés Rodríguez Via Pixabay

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

>