সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি আমাদের প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে না তো!

সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি আমাদের প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে না তো!

প্রথম কথা, কখনও নিজের ভারসম্ম অন্যের হাতে তুলে দেওয়া ঠিক না। কি ভাবছেন? আপনি এমন করেন না বুঝি! ওয়েল আপনি যদি নিজেকে নিজের কন্ট্রলে রাখতে পারেন তাহলে তো খুবই ভালো। তবে আমার এমন অনেক ব্রাদার ও সিস্টার আছে, যারা নিজের উপর থেকে নিজের সব কিছু হারিয়ে বসতে চলেছে এই সোশ্যাল মিডিয়া’র চক্করে।

কোন এক মহান ব্যক্তি বলেছেন তোমার যেটা করতে ভালো লাগে তুমি তাহাই কর, কিন্তু খেয়াল রেখ ভালো করতে, করতে যেন নিজের ক্ষতি করে না ফেল। যদিও এই মহান উক্তি বা এই মহান উক্তির স্রষ্টা কে এই বিষয়ে আমি একদমই জানিনা। তাতে কি বলুন — তবে তাতে কিছু যায় না আসলেও এটা সত্য যে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি আমাদের দিনের পর দিন গিলে খাচ্ছে! কিভাবে? বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলছি…

সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি আমাদের কে কিভাবে দিনের পর দিন গিলে খাচ্ছে তার উপর বিস্তারিত ব্যাখ্যা

আপনি বা আমি আমরা সোশ্যাল মিডিয়া বলতে কি বুঝি? হুম, ফেচবুক, ইউটিউব , টুইটার , ইনস্টাগ্রাম আর কি – আর বোধ হয় তেমন কিছু না। এখন এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলির মাঝে সব থেকে মারাত্মক হচ্ছে ফেচবুক , ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম। ফেচবুক ও ইউটিউব আমার ব্রাদার দের মাথা খাচ্ছে ও ইনস্টাগ্রাম আমার সিস্টার দের মাথা কাচ্ছে কিভাবে বলছি।

প্রানপ্রিয় ফেচবুক

প্রতিটা জিনিসেরই ভালো এবং খারাপ উভয় দিকই থাকে, এখন এটা নির্ভর করে আপনার উপর আপনি সেই জিনিস টিকে কিভাবে ইমপ্লিমেন্ট করছেন। এই যেমন দেখুন না, ফেচবুক কিন্তু সত্যি মারাত্মক রকম ভালো একটি প্লাটফর্ম, এখন চাইলেই মুহূর্তের মাঝে একে উপরের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারছি, সেটা দেশ বিদেশ যেখানেই হোক না কেন, ফেচবুক আসার পর যোগাযোগ এর মাধ্যম টা অনেক বেশি রকম সহজ হয়ে গিছে।

তো আপনি যদি আপনার ফ্রেন্ড দের সাথে বা আপনার ফ্যামিলি’র সাথে কানেক্ট থাকতে চান, তাহলে ফেচবুক হচ্ছে তার জন্য সব থেকে ভালো ওয়ে। কিন্তু আপনি দিন নেই রাত নেই ২৪ ঘন্টা ফেচবুকে পড়ে আছেন ও সব সময় শুধু নিউজ ফিড চেক করে জাচ্ছেন, কোথায় কি হচ্ছে আপনার প্রোফাইলে কতগুলা লাইক কমেন্ট পড়ছে, কত গুলা লাভ রিয়েক্ট পড়ছে ও কত গুলা হা, হা রিয়েক্ট পড়ছে এই বিষয় গুলি কাউন্ট করার জন্য। তাহলে বিষয় টা কি দাড়াল, আপনার খেয়ে কাজ নেই তাই আকাজ করছেন।

কি হবে ব্রাদার এই লাইক, কমেন্ট রিয়েক্ট দিয়ে, আপনি তো কিছু পাচ্ছেন না, এদিকে এই ফেচবুকের নির্মাতা মার্ক জুকারবার্গ উনি প্রতিদিন এই ফেচবুক থেকে ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইনকাম করে নিচ্ছে। ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানে বাংলাদেশে কত টাকা আপনি ভাবতে পারেন; 508,172,100.00 ঠিক এতো টাকা। আরে ব্রো এতটা অলস হওয়া ঠিক না, আপনি ৬ মিলিয়ন অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় কত টাঁকা হয় এই সংখ্যা টাও গুনলেন না। 🤣🤣

যাই হোক তো তাহলে বুজতে পারছেন, ফেচবুকের জিনি প্রতিষ্ঠাতা উনি তো দিন গেলে অসস্র টাকা ইনকাম করে নিচ্ছে আর আপনি আমি কি করছি, ওই আর কি নিউজ-ফিড চেক করছি আর লাইক কমেন্ট হা,হা,হা। হ্যাঁ ফেচবুকে আপনি সময় দিন না, তবে সেই সময় টা যেন হয় কিছু শিখতে আর না হয় কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে, অহেতুক নিউজ-ফিড ও লাইক কমেন্ট চেক করে কিছুই হবে না।

দেখুন নিজের পার্সোনাল কথা বলি, আমিও কিন্তু কোন একটা সময় প্রচুর ফেচবুকে সময় দিতাম তবে ফলাফল সরূপ সেখান থেকে তেমন কিছু শিখতে পারি নি, শুধু মাত্র মানুষ কে ক্রিটিসাইজ করা ছাড়া। তাই হাতে ভালো সময় থাকতে,থাকতে সেই সময় টাকে কিছু শিখতে বা ভালো কিছুর পিছনে খরচ করুণ। এখন সময়ের মূল্যটা ঠিক কতটুকু এটা হয়তবা বুজতে পারছেন না, কিন্তু যখন আপনার হাতে সময় থাকবেনা তখন এই সময় টাকে অনেক বেশি মিস করবেন, তাই জন্য ভালো সময় থাকতে থাকে সময় টাকে কাজে লাগান।

ইউঠুবার…

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন আমি ইউঠুবারই লিখেছি। আচ্ছা আমাকে একটা কথা বলুন তো সবাই কে দিয়ে কি সব কাজ হয়? আচ্ছা আমাকে যদি এখন বলা হয় ” আপনাকে একটা গান করে শুনাতে হবে” ভাবুন একবার এটা শুনেই তো আমার যায় যায় অবস্থা, আমি যাকে বলে বাথরুম সিংগার আর আমি করবো গান। খুবই হাস্যকর…

হ্যাঁ, যদিও আমিও মাঝে মধ্যেই গান করি, তবে সেই গানের কোন মাথা মুন্ডু নেই। 😁😁 তো যাই হোক কাজের কথায় আসি, এখন প্রায় প্রটিটা ঘরে ঘরে দু- এক জন করে ইউটিউবার দেখা যাচ্ছে, হ্যাঁ তাদের সাবস্ক্রাইবার ৫/৭ জন, কিন্তু তাদের চিন্তা ভাবনা এতটা ক্রিয়েটিভ তা বলার মত না। মাঝে দেখি আমার এক ছোট ভাই “গোপাল ভাড়” স্কিন রেকর্ড করে তাহা ইউঠুবে আপলোড করে দিছে, এবং তারপর আমাকে সেই ভিডিও এর লিঙ্ক দিয়ে বলছে আকাশ দা, তুমি ভিডিও টা একটু দেখ আমি কিছুখন আগে তৈরি করলাম, আর হ্যাঁ দাদা তুমি একটু আমার চ্যানেল টা সাবস্ক্রাইব কর। তাহলে ভাবুন…

দেখুন আপনার ইউটুবিং করতে ভালো লাগে ঠিক আছে তাহলে সেই ভাবে কন্টেন্ট তৈরি করুণ তারপর ইউটিউব সেই ভিডিও আপলোড করুণ। আমি প্রথমেই আপনাকে যেমন বলছি সবাই কে দিয়ে সব হয় না, তাই কিছু দিন চেস্টা করার পর যদি বুজতে পারেন ফলাফল খুব একটা ভালো না। তাহলে হয় আপনি কাজ টি আরও ভালো করে করার চেস্টা করুণ আর না হয় বাদ দিয়ে দিন।

আরও ভালো করার চেস্টা করলে হবে এটা, আপনি আপনার ভুল গুলি বুজতে পারবেন ও তার সমাধান করতে পারবেন, আর যদি বাদ দিয়ে দেন তাহলে আর কি, “বাদ…” অন্য কিছু করবেন। কিন্তু আপনি নতুন করে চেস্টাও করবেন না, বাদ ও দিবেন না তাহলে কিভাবে হবে বলুন, আপনার আম ও যাবে ছালাও যাবে। মানে ওই যে উপরে যেমন বললাম সময় থাকবেনা, ব্যাপার টা এমন হয় কিছু শিখুন আর না হয় বাদ দিন।

আবার আমার এই কথার মানে কেউ আবার এভাবে নিবেন না যে, শিখুন মানে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা শিখুন, শুধু শিখলেই তো আর চলবেনা, শিখতেও হবে + সেই শিক্ষা কে মাঝে মাঝে ইমপ্লিমেন্ট ও করতে হবে। সব কিছুর শেষে বিষয় টা এমন হবে, অযথাই অকারণে দিন রাত সব সময় ইউটিউব পড়ে থাকার কোন মানেই হয় না। যদি আপনি সত্যি একজন ইউটুবার হবে চান, তাহলে নিজেকে সেই ভাবে তৈরি করুণ, প্লান করুণ তারপর না হয় সব কিছু করুণ। কিন্তু খামো,খাই নিজের মূল্যবান সময় নস্ট করবেন না, সময়ের মূল্য অনেক, তাই সঠিক সময় কে সঠিক ভাবে ব্যবহার করুণ।

টুইটার

আমার ইন্ডিয়াতে একটা বন্ধু আছে উনি মিম বানানোর চক্করে দিন রাত এক করে টুইটারে পড়ে থাকে, ওর কাজ হচ্ছে টুইটারে কে কাকে খোঁচা দিয়ে টুইট করছে এগুলার উপর নজর রাখা। আর হ্যাঁ এরকম আমাদের আসে পাসেও অনেক ভাই-ব্রাদার আছে যারা দিন রাত এক করে টুইটারে পড়ে থাকে শুধু এটা দেখার জন্য যে কোন সেলিব্রিটি কাকে খোঁচা দিচ্ছে। বা, বা 👌👌

আচ্ছা আপনি জানেন কি বিরাট কলি একটা টুইট করার জন্য কত টাকা নিয়ে থাকে? মেবি না! আমার সব কথার শেষ কথা হচ্ছে এটা, আপনি শুধু দেখছেন কে কাকে খোঁচা দিচ্ছে এটা, আর ওদিকে যে খোঁচা দিচ্ছে সেও কিন্তু সেই খোঁচা দেওয়ার মাধ্যমে কিছু করে নিচ্ছে, হয় সে কিছু ইনকাম করে নিচ্ছে না হয় – কিছুদিন সব কিছুর টেন্ডিং টপিকে থাকছে। সব শেষে লাভ কিন্তু তারই হচ্ছে আপনার বা আমার কিছু না। হ্যাঁ আপনি টুইটারে কাটান না সময় কে মানা করছে আপনাকে? কিন্তু ব্যাপার টা যেন এমন না হয়ে যায় যে আপনি টুইটার ছাড়তে চাইলেও টুইটার আপনাকে ছাড়ছে না। আপনি যে সময় টা টুইটারে নস্ট করছেন সেই সময় টা ভালো কিছু করুণ কিছু শিখুন… খেয়াল রাখুন আপনাকে যেন কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম আপনার অজান্তেই গিয়ে না খেয়ে ফেলে।

ইনস্টাগ্রাম

মঠেল, ও বাবা বানান ভুল লিখছি বুঝি? না আমি ইচ্ছা করেই মঠেল বলছি, কেননা এই সময় টা পড়াশুনা করবার এখন সময় টা মডেল হবার নয়। আমার ছোট বোন ক্লাস ৮ পড়ে ও নাকি মডেল হতে চায় এবং সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে ও যাকে দেখে ইনস্টাগ্রাম মডেল হতে চায় তার নাম বললে আমার চাকরী থাকবেনা।

তো যাই হোক ঠিক আছে, সবার ইচ্ছা ও পছন্দ তো আর এক না, কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে সব কিছুর একটা বয়স ও একটা পারফেকশন এর দরকার আছে। ঠিক আছে তুমি মডেল হতে চাও হও না, কে মানা করেছে, তবে তুমি যে মডেল হতে চাও, তুমি আগে সেই পর্যায়ে জাও সেই সময়ের অপেক্ষা কর তারপর না হয় তোমার যা ভালো লাগে তাই কর।

মানে আমি প্রথম থেকেই যেমন বলে আসছি সব কিছুরই একটা ভালো ও খারাপ বিষয় আছে, যেমন এই ইনস্টাগ্রাম রাতারাতি কাউকে ফক্কা থেকে ছক্কা বানিয়ে দিতে পারে। আবার সেইম ভাবে আপনার সব কিছু এক নিমিশেই খারাপ করে দিতে পারে। তাই সব শেষে এটাই বলব কোন কিছু করবার পূর্বে ভালো করে ভেবে চিন্তে পরিকল্পনা করে আগাতে হবে। তারপর গিয়ে কোন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হতে পারে আপনার মাঝে অনেক বড় কোন টেলেন্ট লুকিয়ে আছে যা আপনি এখনো খুঁজে বের করতে পারেন নি।

তাই জন্য সময় থাকতে থাকতে নিজেকে খুজুন নিজেকে বুঝুন, তারপর না হয় ট্রাই করুণ, আমার এই কথা গুলি বলবার কারন হচ্ছে আপনি যাই করুণ বা আপনি যাই করতে চান না কেন, খেয়াল রাখুন আপনার নিজের উপর নিজের সম্পূর্ণ কন্ট্রল রাখার, ব্যাপার টা যেন কখনও এমন না হয়ে যায়, আপনাকে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি গ্রাস করে ফেলে…।

দেখুন সব কথার শেষ কথা ” এই কথাগুলি সম্পূর্ণ আমার পার্সোনাল ওপেনিয়ান ছিল” — দয়া করে কেউ পার্সোনালই নিবেন না।

ইমেজ ক্রেডিট; By Sara Kurfeß Via Unsplash

শেয়ার করুন:

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা, আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলা আপনার সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করি...

আপনার মতামত শেয়ার করুন...