বড়লোকেরা কেন ম্যাকবুক ব্যবহার করে থাকে, উইন্ডোজ কেন নয়?

বড়লোকেরা কেন ম্যাকবুক ব্যবহার করে থাকে, উইন্ডোজ কেন নয়

প্রথমেই বলে রাখি, ভাই আমি কিন্তু কোন ম্যাকবুক ইউজার কারি নই, আমার উইন্ডোজই সই! এবং তা ছাড়াও ম্যাকবুক ব্যবহার করার মত সামর্থ্য ও আমার নেই, আমি অতো বড়লোক ও নই 😁😁, তো যাই হোক আপনি হয়তবা একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন আমাদের আসে পাসে থেকে শুরু করে মোটামুটি জাদের একটু সামর্থ্য আছে, তারা প্রায় সবাই ম্যাকবুক ব্যবহার করে থাকে।

কিন্তু কেন? কি আছে এই ম্যাকবুকে, এই ম্যাকবুক নিয়ে মানুষের মাঝে এতো হাইপ তৈরি হল কিভাবে? ম্যাকবুক মানেই কি শুধু আপনি বড়লোক এটা সো-অফ করা, নাকি অন্য কিছু। তো চলুন আজ তাহলে যেনে আসি কি আছে এই ম্যাকবুকে, কেন সবাই এই ম্যাকবুকের পিছে ভাগে, ম্যাকবুক দিয়ে আসলে হয় টা কি?

তো সাথেই থাকুন…

কেন উচ্চতর লোকেরা ম্যাকবুক ব্যবহার করে!

কেন জানিনা এই আর্টিকেল টি লিখার সময় নিজেকে অনেক বড় লোক বড় লোক মনে হচ্ছে, হি,হি! যাই হোক কাজের কথাই আসি, কেন বড় লোকেরা ম্যাকবুক ব্যবহার করে, শুধুই কি সো- অফ করার জন্য, নাকি আরও কিছু আছে?

ওয়েল এই প্রশ্নের উত্তর দু রকম, প্রথমত অনেকে তো শুধু তাদের টাকা আছে এটা দেখানর জন্যই ম্যাকবুক ব্যবহার করে। এবং আর এক টাইপ এক লোক আছে, যারা সত্যি কার অর্থেই ম্যাকবুক ব্যবহার কারি। অর্থাৎ তারা ম্যাকবুকের সঠিক ব্যবহার জানে, তারা কেবল সো-অফ করার জন্য ম্যাকবুক ব্যবহার করে না।

যেমন একটু উধাহরন দিয়ে বুঝে নেওয়া যাক

টাইপ অফ সো-অফ পিপল

অই যে থাকে না কিছু সো-অফ কারি টাইপ এর পাবলিক, এনারাও তারা, এনাদের কাজ হচ্ছে বাবার টাকায় ফুটানি দেওয়া, আমার নিজের ও এমন কিছু অস্থির টাইপ এর বন্ধু আছে, তাদের কাজ এই একটাই, বাবার টাকায় ফুটানি করা… আমার বন্ধু বান্ধব দের মাঝে এমন অনেকেই আছে যারা ম্যাকবুকের সঠিক ব্যবহার টা পর্যন্তই জানে না, এই যেমন কিভাবে অ্যাপল আইডি খুলতে হয় এটা পর্যন্ত জানে না।

এইত মাঝে এখান থেকে ক-দিন আগের ঘটনা, আমার এক বন্ধু আইফোন ৮ কিনে এনেছে, এবং তারপর তো চরম একটা বিপদে পড়ে গিছে বেচারা। কোন কিছুতেই আইফোন টা ব্যবহার করতে পারছে না, তারপর কিভাবে আপেল আপস স্টর থেকে আপস ডাউনলোড করতে হয় বেচারা তাও জানেনা।

তো আর কি সব শেষে আমার কাছে আসে এবং বলে, বন্ধু আমি তো একটা নতুন আইফোন নিয়ে এসেছি, এখন কিছু বুজতে পারছি না। পিজ একটু হেল্প কর, তাহলেই ভাবুন, এটাকে সো-অফ ছাড়া আর কি বলা চলে।

রিয়েল ম্যাকবুক ইউজার

এখন একটু কথা বলি রিয়েল ম্যাকবুক ইউজার দের নিয়ে, এই পদের লোকেরা হাই প্রফেশনাল টাইপ এর লোক হয়ে থাকে, এবং এনারা তাদের সিকিউরিটি নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস ফলে এই টাইপ এর লোকেরা ম্যাকবুক ছাড়া কিছু ভাবতেই পারে না।

এবং তা ছাড়াও আরও কিছু বিষয় আছে, যেমন আপনি ম্যাকবুক ব্যবহার করে এতো বেশি সাছন্দ বোধ করবেন, যেটা আপনাকে উইন্ডোজ বেটে গুলে খাইয়ে দিলেও এতোটা সাছন্দ বোধ করবেন না।

কেন ম্যাকবুক এতো বেশি পপুলার

দেখুন ল্যাপটপ মানে কি? পোর্টাবিলিটি রাইট! কিন্তু না, আমাদের কাছে যে ল্যাপটপ আছে সেই ল্যাপটপ গুলা কি সত্তিকার অর্থেই পোর্টেবল? আমার মনে হয় না! কারন জখনই এই সাধারন টাইপ এর ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হয়, তখন ওই সুন্দর করে টেবিল অথবা ডেস্ক এর উপর রেখে, সুন্দর করে চার্জার প্লাগিন কানেক্ট করে নিয়ে তারপর গিয়ে বসতে হয়!

তাহলে বলুন এটা কেমন পোর্টাবিলিটি? কিন্তু ম্যাকবুকের ক্ষেত্রে ব্যাপার টা সম্পূর্ণ আদালা, আপনি যেখানে যেমন খুশি, আপনি সে ভাবেই ম্যাকবুক ব্যবহার করতে পারবেন। এই যেমন রাস্টা ঘাটে ষ্টেশনে ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু আপনি যদি উইন্ডোজ ল্যাপটপ ব্যবহার কারি হন, তাহলে আপনি রাস্টা ঘাটে তো দুরের কথা, চার্জার কানেক্ট না করে কোথাও ব্যবহার করার কথা চিন্তাও করতে পারবেন না। কারন সাধারনত উইন্ডোজ ল্যাপটপ বের করে ওপেন করতেই কিছুটা সময় চলে যায়, তারপর সব কিছ প্রসেসিং করে একটা টাস্ক কম্পিলিট করতে গেলেও সেটাও সময় সাপেক্ষ।

কিন্তু ম্যাকবুক এর ক্ষেত্রে ব্যাপার টা সম্পূর্ণ আলাদা, কিছুটা “ধর তক্টা মার পেরেক” এর মত, আপনি যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন শুধু ম্যাকবুক এর সাটার টা ওপেন করবেন, এবং আপনি রেডি ম্যাকবুক ব্যবহার করার জন্য। না প্রয়োজন পড়বে সাথে চার্জার নিয়ে ঘোরার, না প্রয়োজন পড়বে প্রসেসিং করার জন্য সময়ের।

ম্যাকবুক একদম মোবাইল এর মত, পকেট থেকে বের করলেন, পাওয়ার বাঁটন প্রেস করলেন, এবং আপনি রেডি, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার জন্য। ঠিক একই রকম ম্যাকবুক এর ব্যাপার টাও, আপনি যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন, আপনি শুধু ম্যাকবুকের সাটার খুলবেন, এবং আপনি রেডি ম্যাকবুক ব্যবহার করার জন্য।

অপারেটিং সিস্টেম

যে কথাটা না বললেই নয়, মানুষ ম্যাকবুকের উপরে এতটা ঝুকে পড়ার মেইন যে কারন তা হচ্ছে ম্যাকবুকের অপারেটিং সিস্টেম। ভাই রে ভাই, ম্যাকবুকের অপারেটিং সিস্টেম এতটা স্টেবল যা বলার মত না, চিন্তা করুণ আপনি একটা একটা ম্যাকবুক ১ মাস পর্যন্ত সাটডাউন না করে ব্যবহার করতে পারবেন। মানে এক মাসে যদি আপনি একবার ও আপনার ম্যাকবুক বন্ধ বা রি-স্টার্ট না করেন, তাতেও কোন প্রবলেম নেই, আপনার ম্যাকবুক আরামসে চলবে।

এবং উইন্ডোজ এর মত কিন্তু ম্যাকবুক অতটা ক্রাশ করে না, আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন উইন্ডোজ হঠাৎ হঠাৎ করেই ক্রাশ করে, ব্লু স্কিরিন চলে আছে। কিন্তু ম্যাকবুকে এই সমস্যা টা নেই বললেই চলে। আর জদিও বা কখন ম্যাকবুক ক্রাশ করে, তাহলে আপনার যেখান থেকে ক্রাশ করেছিলি আবার সেখান থেকেই স্টার্ট হয়ে যাবে।

বিষয় টা অনেক পেইন দেয় রাইট? ধরুন আপনি একটা ভিডিও ইডিট করছেন, আপনি আপনার ভিডিও তৈরি করতে সব মসলা পাতি দিয়ে সব কিছু রেডি করে নিয়ে এসেছেন, এখন হঠাৎ করেই আপনার উইন্ডোজ ক্রাশ করল, তখন কি করবেন? কি আর করার কিছুই করার নেই, আবার সব কিছুই প্রথম থেকেই করতে হবে। কিন্তু ম্যাকবুকের ক্ষেত্রে সে ব্যাপার টা সম্পূর্ণ আলাদা, ধরুন আপনার একটি ভিডিও ইডিট করতে, করতে যদি আপনার ম্যাকবুক ক্রাশ করে। তাহলে আপনার ম্যাকবুক ঠিক যে যায়গা থেকে ক্রাশ করেছিল, সেই যায়গা থেকেই আবার স্টার্ট হয়ে যাবে, আপনাকে কিছু বুজতে দিবে না।

ব্যাটারি ব্যাকআপ

উইন্ডোজ এর ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে আর না হয় নাই বললাম, উইন্ডোজ ল্যাপটপ গুলাতে বলা থাকে আপ টু ৭/৮ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিবে, কিন্তু রিয়েল লাইফ ইউজে ব্যাটারি ব্যাকআপ দিয়ে থাকে ২/৩ ঘণ্টার মত।

আর ওদিকে ম্যাকবুক আপনাকে যা বলে তাই হয়ে থাকে, অর্থাৎ ম্যাকবুক আপনাকে বলে থাকে ১০/১২ আরামসে ব্যাটারি ব্যাকআপ দিবে, সত্যি তাই দেয়, হ্যাঁ কিছুটা কম বেশি হয়। তবে উইন্ডোজ এর তুলনায় ম্যাকবুকের ব্যাটারি ব্যাকআপ খুব বেশি রকম ভাল।

সিকিউরিটি

যদিও আমাদের দেশে অনেকেই পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকে, ফলে বলা চলে আমাদের দেশে অনেকেই আছে তারা সিকিউরিটি নিয়ে একটুও মাথা ঘামায় না, যাই হোক সে অন্য গল্প। সিকিউরিটি, ম্যাকবুকের সিকিউরিটি সিস্টেম অনেক বেশি স্ট্রং ফলে যে কেউ চাইলেই আপনাকে হ্যাক করতে পারে না।

এবং ম্যাকবুকে খুব বেশি ভাইরাস ও আসে না, তার কারন হচ্ছে উইন্ডোজে যে রকম ক্রাক বা সফটওয়্যার পাওয়া বা বানানো যায়, ম্যাকবুকে তেমন টা নয়, আর ম্যাকবুকের জন্য উইন্ডোজ এর তুলনায় সফটওয়্যার ও অতো বেশি না ফলে ভাইরাস অ্যাটাক এগুলা নিয়ে তেমন মাথা না ঘামালেও চলে।

পারফর্মেন্স

সব কথার শেষ কথা এটাই, রিয়েল যারা ম্যাকবুক ব্যবহার করে তারা আসলে এই ম্যাকবুকের পারফর্মেন্স এর জন্যই ম্যাকবুক ব্যবহার করে। একটি ম্যাকবুকের যে দাম সেই দামে একটি হাই কনফিগারেশন এর উইন্ডোজ ল্যাপটপ পেয়ে জাবেন, কিন্তু যদি ম্যাকবুক আর উইন্ডোজ এর সাথে কম্পেয়ার করেন তাহলে আকশ আর পাতাল পার্থক্য পাবেন।

কেননা, ম্যাকবুক তাদের হার্ডওয়ার্ড থেকে শুরু করে, তাদের ম্যাক ওএস সব কিছুই নিজেরা বানিয়ে থাকে, ফলে তারা জানে যে তাদের ম্যাকবুকে কেমন পারফর্মেন্স করবে, এবং তারা সেভাবেই ম্যাকবুক অপ্টিমাইজ করে তারপর মার্কেটে ছাড়ে। আর অন্য দিকে উইন্ডোজ বেচারা নিজেই জানেনা যে তাকে কোন হার্ডওয়ার্ড চালানো হবে। আর মুলত এ জন্যই ম্যাকবুক ও উইন্ডোজ এর পারফর্মেন্স এর মাঝে আকশ জমিন পার্থক্য দেখা যায়।

শেষ কথাঃ

তো মুলত এগুলাই ছিল কারন ম্যাকবুক ব্যবহার করার, এ জন্যই বড়লোক থেকে শুরু করে প্রফেশনাল মানুষেরা মাকবুক ব্যবহার করে থাকে। তো আরকি এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। টা,টা

হ্যাপি লার্নিং

ইমেজ ক্রেডিট; Dmitry Chernyshov Via Unsplash

শেয়ার করুন:

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা, আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলা আপনার সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করি...

আপনার মতামত শেয়ার করুন...