ব্লগে কেমন আর্টিকেল লিখবেন ? কিভাবে ব্লগে আর্টিকেল লিখতে হয়

ব্লগে-কেমন-আর্টিকেল-লিখবেন-কিভাবে-ব্লগে-আর্টিকেল-লিখতে-হয়

বর্তমান সময়ে প্রায় সবারই একটি ব্লগ/ওয়েবসাইট আছে। এবং সেই ব্লগ বা ওয়েবসাইট দিয়ে টাকা ও ইনকাম করতে চায় অনেকে। কিন্তু প্রবলেম হয় এখানে গিয়ে,কিছুদিন পর আপনি বুজতে পারেন না আপনি কি নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন বা কিভাবে লিখতে হয়। চিন্তার কোন কারন নেই আমি বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবো আপনাকে। আপনার ব্লগে কেমন আর্টিকেল লিখবেন। এবং কিভাবে ব্লগে আর্টিকেল লিখতে হয়।

আমি আমার কথা একটু বলতে চাই। আমি নিজে অনেক বার ভুল করেছি, না হলেও কম করে আমি ১৫/২০ টা ব্লগ বানিয়েছি। তবে সফলতা একটাতেও পাইনি। না পাওয়ারি কথা। কেননা আমার অনেক ভুল ছিল।আমি কি করতাম এক জায়গা থেকে শুনতাম, এবং তারপর সেই টপিক নিয়ে ব্লগিং ফিল্ড এ ঝাপিয়ে পরতাম। এবং শেষে গিয়ে কিছুই পারতাম না।

আমার বার্থ হওয়ার পিছে যে কারন গুলা ছিলঃ- আমি শুধু টাকার পিছনে ছুটতাম, যেখানে যা পেতাম তাই নিয়ে ভাবতাম ব্লগিং করবো। প্রচুর অলস ছিলাম, এবং নিজে ঠিক মত জানতাম না সবটা। তা ছাড়া আরও অনেক ভুল ছিল আমার। এই কথা গুলো এই জন্যই বলা যাতে আপনি ব্লগিং ফিল্ড এ এসে আমার মতন ভুল না করেন। তাহলে এবার চলেন মুল আর্টিকেল এর দিকে যাওয়া যাক।

ব্লগিং শুরু করার পূর্বে তিনটি বিষয় ধ্যান রাখতে হবে।

  • আপনি ব্লগিং কেন করছেন ?
  • আপনি ব্লগিং নিয়ে কতটা সিরিয়াস ?
  • আপনার ব্লগ কে আপনি কতদূর নিয়ে যেতে চান ?

আপনি ব্লগিং কেন করছেন ?

আপনি যদি শুধুই টাকার জন্য ব্লগিং করতে চান তবে এক কথায় বলে দিবো আপনাকে আপনার জন্য ব্লগিং নয়। আপনি অন্ন কিছু করুন। এখন আপনি বলতে পারেন হ্যাঁ ভাই এটা কেমন কথা ? ব্লগিং করে টাকা ইনকাম না করতে পারলে আমি ব্লগিং করবো কি জন্য?

ওয়েল ভেরি গুড কোশ্চেন। আমার কথা ভালো করে মন দিয়ে বুঝুন। ব্লগিং দুই একটা দিনের কাজ নয়। আপনাকে প্রতিনিয়ত কাজ করে যেতে হবে। অলসতা দেখালে চলবে না। ব্লগিং নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। তারপর ব্যাকলিঙ্ক, এসিও এগুলাও করতে হবে আপনার ব্লগের জন্য।

তবে এসব করতে করতে আপনার অনেক সময় লেগে যাবে। আর আপনার মুল উদ্দেশ্য টাকা ইনকাম করা হলে। আপনি তা পারবেন না। কেননা এসব করতে করতেই আপনার ৫/৭ মাস সময় লেগে যাবে। আর তখন আপনি ব্লগিং করা ছেড়ে দিবেন।

এ জন্যই আপনি যদি শুধু যদি টাকা ইনকাম করার জন্য ব্লগিং ফিল্ড এ আসেন তবে কিছু করতে পারবেন না। আপনাকে বুজতে হবে আপনি কি ইনেস্টান্ডলি কিছু টাকা রোজগার করতে চান? নাকি সারাজিবন ধরে ইনকাম করতে চান। অবশ্যই সারাজিবন ধরে। তাই আপনাকে আগে বুজতে হবে আপনি ব্লগিং কেন করছেন, বা করতে চান।

আপনি ব্লগিং নিয়ে কতটা সিরিয়াস ?

আপনার উত্তর, হ্যাঁ আমি অনেক সিরিয়াস। ?? সত্যি কি তাই? যদি সত্যি তাই হয়ে থাকে তবে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার এর ফিউচার অনেক ভালো। আর যদি আপনি শুধু মুখে মুখেই তবে কিছুই হবে না। কেননা আমি নিজেও এমন ছিলাম কিছু একটা দেখতাম আর ভাবতাম আমি এটা করবো ওটা করবো মাথায় গিয়ে কিছুই করতে পারতাম না।

এ জন্যই আপনাকে ব্লগিং নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে। আমি আগে যেমন টা করতাম আপনিও যদি আমার মত শুধুই কপি পেস্ট এর চিন্তা নিয়ে ব্লগিং শুরু করে দেন। তবে কিছু তো হবেই না। ওল্টে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হবে। এ জন্যই ব্লগিং শুরু করার পূর্বে ব্লগিং নিয়ে সিরিয়াস হওয়াটা অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ব্লগ কে আপনি কতদূর নিয়ে যেতে চান, বা পারবেন ?

আপনি যদি বুজতে পারেন আপনি আপনার ব্লগ কে কতদূর নিয়ে যেতে পারবেন বা কতদূর নিয়ে যেতে চান। তবে আমি ১০০% শিওর আপনি ব্লগিং কারিয়ারে অনেক দ্রুতই সফল হবেন। তার কারন আপনি যদি আপনার ব্লগ কে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবে থাকেন, বা ঠিক করে থাকেন তবে উপরে বলা দুইটি বিসয়েই আপনার অবশ্যই ধ্যান আছে।

আপনি ব্লগিং কেন করছেন সেটিও পরিস্কার, এবং ব্লগিং নিয়ে আপনি কতটা সিরিয়াস তাও পরিস্কার। সো আপনি নিশ্চিন্তে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন।

ব্লগে কেমন আর্টিকেল লিখবেন ?

এটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ আপনার উপর। হ্যাঁ আপনার উপরই। কেননা আপনার কিসের উপর ইন্টারেস্ট এটা আমার থেকে আপনি ভালো জানেন বা বুজবেন। আর এজন্যই আপনাকে আপনার ব্লগের জন্য একটি টপিক সিলেক্ট করতে হবে। হোক সে যে কোন টপিক। এটা মাথায় রাখবেন ব্লগিং তখনই সম্ভব যখন আপনার ইন্টারেস্ট থাকবে।

এমন হল আপনার ভালো লাগে না, বা আপনার তেমন ইন্টারেস্ট নেই আপনি দেখলেন এবং ব্লগিং শুরু করে দিলেন। এ জন্যই বলছি এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি আপনার ব্লগে কেমন আর্টিকেল লিখবেন।

তবে অনেক সময় হয় কি, আপনি ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না আপনার কি ভালো লাগে। বা আপনি কোন টপিক এর উপরে বেশি ইন্টারেস্টেড। আপনি কনফিউস হয়ে পড়েন? তাহলে আমি একটা ট্রিক শেয়ার করতে চাই আপনার সাথে।

আপনি একটি খাতা কলম নিন, এবং আপনি কিছু টপিক সিলেক্ট করুন এবং প্রত্যেক টা টপিক এর উপর কিছু করে আর্টিকেল লেখা শুরু করুন। এবং নিজে বুঝুন আপনি কোন টপিকের উপরে ভালো করে আর্টিকেল লিখতে পারবেন। বা কোন টপিকে আর্টিকেল লিখতে বেশি কম্ফট পাচ্ছেন।

আমি নিচে কিছু টপিক বলে দিচ্ছি, আপনি এর থেকে যে কোন একটি টপিক নির্বাচন করুন।

  • টেকনিক্যাল
  • ব্লগিং
  • অনলাইন ইনকাম
  • টিপস এন্ড ট্রিক
  • ম্যাগাজিন
  • লাইফস্টাইল
  • মেডিকেল
  • ট্র্যাভেল
  • হোস্টিং
  • ওয়েবসাইট ডেভেলপার
  • এসিও
  • মার্কেটিং
  • পড়াশুনা
  • নিউজ

এখন আপনাকে যেভাবে বলা হয়েছে আপনি সেই ভাবে এক, এক করে সব গুলি টপিক নিয়ে কিছু আর্টিকেল লিখুন। এবং বুঝুন আপনি কোন টপিক এর উপরে আর্টিকেল লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তারপর আপনি সেই টপিক অনুযায়ী আর্টিকেল লেখা শুরু করে দিন।

শুনুন ব্লগিং করা খুব সহজ তেমন টা না। আবার খুব কঠিন তাও না। আপনাকে এমন কিছু একটা করতে হবে যার উপরে আপনি বলা চলে “পি এইচ ডি” করে রেখেছেন। যে বিষয় টা নিয়ে আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লিখে যেতে পারবেন।

আরও একটি বিষয় আপনি কোন বিষয়ে লেখার আগে সেই বিষয় এর উপর পূর্ণাঙ্গ একটি ধারনা রাখতে হবে। এবং সেই টপিক নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। তারপর আর্টিকেল লিখতে হবে।

ব্লগে আর্টিকেল লেখার নিয়ম

ব্লগে কেমন আর্টিকেল লিখবেন সেটা তো বুজতে পারছেন। এখন জানতে হবে ব্লগে আর্টিকেল কিভাবে লিখতে হয়। ব্লগে ভালো করে আর্টিকেল লেখার জন্য কিছু বিষয়ে ধ্যান রাখতে হবে।

  • টাইটেল
  • কি ওয়ার্ড
  • হেডিং এর ব্যবহার
  • আর্টিকেল এর ভিতর লিংক
  • ছোট, ছোট করে লেখা

আর্টিকেল এর টাইটেল কিভাবে লিখবেন ?

আর্টিকেল এর টাইটেল সব সময় এমন ভাবে লেখার চেষ্টা করুন, যাতে এক নজরেই দেখে বুঝা যায় যে এই আর্টিকেল টি কিসের উপর লেখা। এবং এই আর্টিকেল থেকে কি পাওয়া যাবে। আর চেষ্টা করবেন টাইটেল একটু ছোট দিতে। কেননা অনেক বড় করে আর্টিকেল এর টাইটেল দিলে অনেক সময় এসিও এর ক্ষেত্রে একটু প্রবলেম হয়।

এমন ভাবে আর্টিকেল এর টাইটেল লিখতে হবে। যা পড়তে অনেক টা ইন্টারেস্টিং হবে। এবং আর্টিকেল এর টাইটেল দেখে সম্পূর্ণ পোস্ট পড়বে। মুল কথা আর্টিকেল এর টাইটেল ছোট, ইউনিক, এবং আকর্ষণীয় করে লিখতে হবে।

কি ওয়ার্ড ফোকাস করে আর্টিকেল লিখুন।

একটি কি ওয়ার্ড সিলেক্ট করুন। এবং সেই কি ওয়ার্ড টি ফোকাস করেই আর্টিকেল লিখুন। পুরো আর্টিকেল টা একটি কি ওয়ার্ড টার্গেট করে লিখুন। এবং এমন ভাবে লিখুন যাতে আপনার আর্টিকেল টি পড়ার পর, সেই কি ওয়ার্ড বা টপিক এর উপর পূর্ণাঙ্গ ধারনা পাওয়া যায়।

চেষ্টা করুন সেই কি ওয়ার্ড রিলেটেড সব কিছু কাভার করতে। তবে বেশি লিখতে গিয়ে জড়িয়ে পিচিয়ে ফেলবেন না। এতে আপনার ব্লগের রিডার দের বুজতে প্রবলেম হবে। আর তা ছাড়া গুগল এরও বুজতে সুভিদা হবে আপনি কিসের উপর আর্টিকেল লিখেছেন। ফলে আপনি গুগল থেকে অরগানিক ট্রাফিক পাবেন।

হেডিং এর ব্যবহার করতে হবে ?

আমি অনেক ব্লগ পরেছি এবং অনেকেই দেখিছি। তারা খুব সুন্দর করে আর্টিকেল লেখে। তবে প্রবলেম যা দেখেছি তা হল হেডিং এর ব্যবহার না করতে। ফলে কি হয় তাদের আর্টিকেল রেঙ্ক করতে অনেক সময় নেয়। এবং বলা চলে যে সকল আর্টিকেল এর ভিতর হেডিং এর ব্যবহার করা হয় না। সে সকল আর্টিকেল অনেক কমই গুগল রেঙ্ক করে।

তা ছাড়া আপনার ব্লগের রিডার দের ও বুজতে প্রবলেম হয়। এ জন্যই হেডিং এর ব্যবহার অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর্টিকেল এর H1,H2,H3,H4 হেডিং এর ব্যবহার করুন।

আর্টিকেল এর ভিতর লিংক দিতে হবে

আপনি খেয়াল করে দেখে থাকবেন যে একটি আর্টিকেল এর ভিতরে অনেক গুলা অন্যান্য আর্টিকেল এর লিংক দেওয়া থাকে। এর ফলে হয় কি, আপনার আর্টিকেল পড়তে পড়তে আপনার সেই আর্টিকেল এর টপিক রিলেটেড অন্ন সকল বিষয়ের ও উত্তর পেয়ে যায় আপনার ব্লগের রিডার রা।

এর থেকে আপনার দুইটা সুভিদা হবে। একঃ- আপনার ব্লগের রিডার রা আপনার ব্লগ থেকে সব প্রস্নের উত্তর পেয়ে যাবে। বা আপনার ব্লগের রিডার দের বুজতে সুভিদা হবে। দুইঃ- আপনার আর্টিকেল এর ভিতর লিংক দেওয়ার ফলে আপনার ব্লগ গুগল এর চোখে অনেক ভালো হয়ে যাবে। ফলে আপনার ব্লগের এসিও এর কাজ টা অনেক ভালো হয়ে যাবে। এ জন্যই আর্টিকেল এর ভিতর লিংক দেওয়াটাও অনেক জরুরি।

ছোট, ছোট করে লিখতে হবে

নিজেই দেখুন আমি আমার এই আর্টিকেল টি ছোট, ছোট প্যারাগ্রাফ করে লিখেছি। এতে কি হয়েছে আপনার আমার কথা বুজতে সুভিদা হয়েছে। এখন ভাবুন তো আমি যদি অনেক বড় বড় প্যারাগ্রাফ করে আর্টিকেল টি লিখতাম আপনি কি সব টা ঠিক থাক বুজতে পারতেন।

না পারতেন না, ফলে কি হত আপনি আমার ব্লগ ছেড়ে চলে যেতেন। কারন আপনি যদি বুজতেই না পারেন আমি কি বলছি। বা আপনি এই আর্টিকেল যা শেখার জন্য আসছেন, আপনি যদি তা না বুজতে পারেন তবে এই আর্টিকেল লেখার কোন মানেই হয় না আমি মনে করি।

এই জন্যই আর্টিকেল ছোট, ছোট করে লিখতে হবে। ছোট ছোট করে আর্টিকেল লিখলে আপনার ব্লগের রিডার দের বুজতে অনেক ভালো হবে, এবং আপনার আর্টিকেল লেখাটাও সার্থক হবে।

আমাদের কিছু কথা আপনার জন্য।

পারসোনালি আমি নিজে এই ভুল গুলো করে এসেছি। এবং আমি অনেক বড় ফেইলার, আমি চাইনা আমার মত আপনিও আমার করা ভুল গুলো করুন। আমি আমার এই আর্টিকেল এর ভিতর সব টা সত্যি বলছি, এবং আপনাকে পূর্ণাঙ্গ একটি ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনার যদি আরও কিছু জানার থাকে তবে আপনি কমেন্ট করে বলতে পারেন। আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর যথাসম্ভব দ্রুত দেয়ার চেস্টা করবো। ধন্যবাদ

ইমেজ ক্রেডিট; By Kaitlyn Baker Via Unsplash

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *