ব্লগিং সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন ও তার সহজ উত্তর!

একটা সময় ছিল যখন শুধুই লেখালেখি করে নিজের জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যম ছিল ব্লগিং। বাট যদি ব্লগিং কে বর্তমান সময়ের সাথে কম্পেয়ার করা হয়; তাহলে ব্লগিং বিষয় টা এখন আর আগের মত নেই। বর্তমান সময়ে ব্লগিং কে আপনি যদি ঠিক ভাবে নিজের বসে আনতে পারেন তাহলে আপনাকে আর পায় কে। হ্যাঁ, আমি সত্যি কথা বলছি খুজলে তো এমন অনেক কেই পাওয়া যাবে যারা ১০/১৫ হাজার টাঁকা মাইনের চাকরী ছেড়ে দিয়ে ফুল টাইম ব্লগিং করছে, এবং সেই ব্লগিং থেকে খুব ভালো টাকা ইনকাম করছে।

ওয়েল ব্রাদার শুনতে অনেক ইন্টারেস্টিং হলেও ব্যাপার টা সত্যি অতটা সহজ না, নিজের ব্লগিং ক্যারিয়ার সোজা করে দাড় করাতে অনেক কস্ট করতে হয়। আর এই ব্যাপার টা যারা নিউলি ব্লগার আছে তারা ভাবে, ব্লগিং করা খুবই সহজ এটা কোন ব্যাপার নাকি। ফলে তাদের ব্লগিং ক্যারিয়ার নিয়ে দেখা সপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়, সেই স্বপ্ন কে বাস্তবায়িত করা আর হয়ে উঠে না।

যাই হোক, আপনিও যদি ভেবে থাকেন আপনাকে দিয়ে আর হচ্ছে না, আপনাকে দিয়ে ব্লগিং হবে তো? তাহলে ব্রাদার আজকের আর্টিকেল টি আপনার জন্যই। আপনাকে আজ ব্লগিং বেটে গুলে খাইয়ে দেওয়ার চেস্টা করবো।

নিউলি ব্লগার দের চিন্তা ভাবনা!

ব্রাদার আপনি ব্লগিং করছেন বর্তমান সময়ে, আর আপনার চিন্তা ভাবনা যদি সেই আদিম কালের হয়ে থাকে তাহলে কিভাবে চলবে বলুন। সময়ের সাথে সাথে নিজের চিন্তা শক্তিও পরিবর্তন করতে হবে। আমার কথা কি মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে – ওয়েল উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে বলছি; ধরুন আপনি এই সময়ে এসে ব্লগিং করছেন, আর আপনার মাথায় ব্লগিং এর কনসেপ্ট সেই পুরানো সময়ের তাহলে কিভাবে চলবে?

আরও সহজ করে বুঝিয়ে বলার চেস্টা করছি, আগে একটা সময় ছিল যখন এই টাইপ এর কনটেন্ট খুব বেশি রকম চলত, যেমন – কিভাবে ফ্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, এই সিমে এই অফার, অমুক, তমুক হাবি জাবি। ব্রাদার প্রথম কথা ইহাকে তো কোন ভাবে ব্লগিং বলা চলে না, আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে এই টাইপ এর কনটেন্ট এখন চলে না। মানুষ এখন আগের থেকে অনেক সচেতন এসব ফালতু জিনিস নিয়ে মানুষের মাথা ঘামানোর সময় এখন আর নেই।

তো তাই এখন চেস্টা করতে হবে চিন্তা ভাবনা পরিবর্তন করে নতুন কিছু করার, কিছু ক্রিয়েটিভ করবার – ওই সবাই যা করছে তাহা করলে চলবেনা ও আগের জামানার সিস্টেম অনুসরণ করে ব্লগিং করলেও চলবেনা। নিজের নিজস্বতা দিয়ে চেস্টা করতে হবে।

নিউলি ব্লগার দের চিন্তা ভানবা নিয়ে এতো গুলা কথা বলার মেইন কারন হচ্ছে এটা, নিউলি ব্লগার দের সর্বপ্রথম ভুল এই এটাই। কাউকে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে ব্লগিং শুরু করে দেওয়া, কিন্তু ঠিক ঠাক চিন্তা শক্তির অভাবে কিছু দিন পর ব্লগিং ছেড়ে দেওয়া।

ব্লগিং সম্পর্কে আপনার মাঝে লুকয়িত কিছু প্রশ্ন ও তাহার সহজ উত্তর!

১. ব্লগিং আপনাকে দিয়ে হবে তো?

ওয়েল কেন হবেনা, হতে বাধ্য আমি পারলে আপনি কেন পারবেন না বলুন? আমি পারলে আপনিও পারবেন! তবে আবার এখানে অন্য গল্প ও আছে সব কাজ সবাই কে দিয়ে পসেবল না। যেমন আপনার যদি লিখতে ভালো লাগে তাহলে আপনি আজ হোক বা কাল একদিন সফল ব্লগার হয়ে উঠতে পারবেন। আর যদি আপনার লিখতে ভালো না লাগে, ওই আপনি কাউকে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে ঠিক করেছেন আপনিও লিখবেন মানে ব্লগিং করবেন তাহলে হয়তবা আপনাকে দিয়ে ব্লগিং নাও হতে পারে।

কারন ব্লগিং এর জার্নি টা এক বা দু দিনের নয়। আপনাকে প্রতিনিয়ত লিখে যেতে হবে কিন্তু আপনি যদি কাউকে দেখে ব্লগিং করতে আসেন নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে — অর্থাৎ শুধুই টাকা ইনকাম করার চিন্তায় যদি ব্লগিং করতে আসেন, তাহলে আপনি ব্লগিং করতে পারবেন কি না এই বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ থাকবে!

২. গুগল এডসেন্স এর পিছনে দৌড়ানো

কেন ব্রাদার আপনার গুগল এডসেন্স নিয়ে এতো মাথা ব্যাথা কেন বলবেন কি? দেখুন আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত পরিমান ট্রাফিক ই না আসে তাহলে আপনি করবেন টা কি এই এডসেন্স দিয়ে বলুন? তাই ব্লগিং শুরু করে দেওয়ার সাথে সাথেই এডসেন্স এর পিছনে “ভাগ মিল্কা ভাগের” মত করে না দৌড়ে নিজের কন্টেন্ট এর দিকে ফোকাস করুণ, তাহলে দেখবেন আপনার ব্লগে ভালো রকম ট্রাফিক আসছে। আর যখন দেখবেন আপনার ব্লগে ট্রাফিক আসা শুরু করে দিয়েছে তখন এডসেন্স এর কথা চিন্তা করুণ!

আর হ্যাঁ গুগল এডসেন্স নিয়ে নিউলি ব্লগার দের লাফালাফি করার মেইন যে কারন তা হচ্ছে – আপনার ব্লগে এডসেন্স আপ্রুভাল দিবে তো? হুম ১০০% দিবে এটা নিয়ে আপনাকে একটুও টেনশন করতে হবে না। আপনার ব্লগের কন্টেন্ট এর মান যদি ভালো হয় তাহলে প্রথম চান্স এই আপনি এডসেন্স এর আপ্রুভাল পেয়ে যাবেন।

৩. ট্র্যাফিক আসছে না

একটু হিসাব করুণ তো আমাদের ১০/ ১২ হাজার টাকা একটা চাকরী পাওয়ার জন্য কত বছর পড়াশুনা করা লাগে? আর আপনি দু – দিন ব্লগিং শুরু করেই তার থেকে অর্থ উৎপাদন করতে চান? ব্যাপার টা হাস্যকর না, দেখুন আপনার কন্টেন্ট এর গুনগত মান যদি ভালো হয় তাহলে একটা সময় আপনার ব্লগে ট্রাফিক আসবে এটা আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।

কিন্তু যারা নিউলি ব্লগার তাদের এক্সপেক্টেশন — আজ একটি ব্লগ তৈরি করবো, এবং কাল কিছু আর্টিকেল ব্লগে পাবলিশ করে দিব ও পরশু থেকে আমার ব্লগে প্রচুর ট্রাফিক আসা শুরু করে দিব। এভাবে কি হয় বলুন? না ব্রাদার এভাবে হয় না। আপনাকে যেভাবে ১০/১২ হাজার টাকা চাকরী করবার জন্য অনেক ক বছর পড়াশুনা করা লাগে। ঠিক সেভাবে আপনার ব্লগ কে একটি সাক্সেস ফুল ব্লগে রূপান্তরিত করবার জন্যও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন আছে।

তাই নতুন ব্লগ তৈরি করার পর পর ই এটা ভেবে মন খারাপ করবেন না যে, আপনার ব্লগে ট্রাফিক কেন আসছে না। এবং এটা ভেবে ব্লগিং করা বন্ধ ও করে দিবেন না। সঠিক ভাবে কাজ করে গেলে বছর খানেক এর মাঝেই আপনার ব্লগ একটি সফল ব্লগে রুপান্তিরিত হবে।

৪.ব্লগিং তৈরি করবেন কি সিএমএস ব্যবহার করে?

ওয়েল দেখুন প্রফেশনাল ভাবে যদি ব্লগিং করতে চান তাহলে অবশ্যই আমি আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ব্যবহার করে ব্লগ তৈরি করতে বলব। বাট তার মানে কেউ আবার এটা ভেবে বসবেন না যে গুগল এর ব্লগার বাজে বা খারাপ – বিস্তারিত বলার আগে আপনাকে এই digitalinformationworld ওয়েবসাইট এর সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে চাই একটু, এই ওয়েবসাইট টি কিন্তু সম্পূর্ণ গুগল এর ব্লগারে তৈরি ও এই ব্লগ টি’কে কিন্তু প্রচুর ট্র্যাফিক হয় প্রতি মাসে “আড়াই লক্ষের” মত ট্র্যাফিক হয়। যা মোটেও কম না; তাহলে বুজতে পারছেন তো? গুগল এর ব্লগার কে কেউ আবার আন্ডারস্টিমেট করতে যাবেন না।

উপরের এই ওয়েবসাইট টি দিয়ে উদাহরন দেওয়ার কারন শুধু এটাই যে, আপনার কন্টেন্ট যদি ভালো হয় তাহলে আপনি কি সিএমএস ব্যবহার করে ব্লগ তৈরি করছেন এটা মোটেও ম্যাটার করে না। মনে রাখবেন ব্লগের কন্টেন্ট ই আপনার ব্লগের “কিং” সিএমএস দিয়ে তা কখনই বিচার করতে যাবেন না।

একজন নিউলি ব্লগার এর এই স্পস্ট কথা গুলি অবশ্যই জানা উচিৎ, যাতে করে ব্লগিং করতে করতে হঠাৎ করেই আপনাকে ব্লগিং করা বন্ধ না করে দিতে হয়। এবং ব্লগিং করতে গিয়ে আপনাকে যাতে কখনও এমন বাজে সময়ে না পড়তে হয় তাই জন্য আজকের এই আর্টিকেল টি লেখা।

ইমেজ ক্রেডিট; By Plann Via Pexels

শেয়ার করুন:

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা, আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলা আপনার সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করি...

আপনার মতামত শেয়ার করুন...