ব্লগিং শুরু করবার জন্য রুটিন করা কেন অনেক জরুরি?

ব্লগিং করার জন্য কিভাবে রুটিন তৈরি
Sample Blogging Routine in bangla

শখের বসে অথবা নিজের ক্যারিয়ার তৈরির জন্য বর্তমান সময়ে প্রচুর লোক ব্লগিং করছে। তবে আপনার জেনে রাখা জরুরি, ব্লগিং করে আপনি নিজের একটা সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরি করে নিতে পারবেন।

কিন্তু, ব্লগিং বিষয় টা বর্তমান সময়ে অনেকেই প্রচুর সহজ করেই দেখেন। অনেকেই মনে করেন ব্লগিং করা আসলে কোন কঠিন কাজ নয়।

তবে আমি আপনাকে জানিয়ে রাখি, আপনিও যদি ভেবে থাকেন ব্লগিং খুব সহজ। কিছু সময় বা কিছু দিনের মাঝে ব্লগিং থেকে সফলতা পাওয়া যেতে পারে।

তবে তা আপনার সম্পূর্ণ ভুল ধারনা।

ব্লগিং সঠিক ভাবে করতে পারলে আপনি সফলতা অবশ্যই পাবেন। কিন্তু তার জন্য আপনাকে প্রচুর কাজ করে যেতে হবে।

এবং প্রতিনিয়ত কাজ করে যেতে হবে।

যদি ব্লগিং করবার জন্য আপনি রুটিন করে কাজ করতে পারেন। বা রুটিন অনুযায়ী ব্লগিং করে নিতে পারেন, তবে তা আপনার জন্য খুব ভাল প্রমাণিত হবে।

কিভাবে? নিচে বিস্তারিত আলোচনা করছি। আমাদের সাথেই থাকুন।

কেন ব্লগিং করার জন্য রুটিন তৈরি করবেন?

অনেক কারণ আছে যে জন্য আপনার অবশ্যই ব্লগিং করার জন্য রুটিন তৈরি করতে হবে।

ব্লগিং সম্পর্কে অনেকের ধারনা কেবল এমন হয়ে থাকে।

একটা ডোমেইন নিতে হবে, তারপর হোস্টিং নিতে হবে, তারপর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, এবং তারপর সেখানে আর্টিকেল লেখা শুরু করে দিতে হবে।

ব্যাস, এটাই আসলে ব্লগিং।

কিন্তু না, আপনি জেনে রাখুন ব্লগিং শুনতে যেমন সহজ। ব্লগিং করাটা কিন্তু তার থেকে প্রচুর কঠিন।

বর্তমান সময়ে ব্লগিং এমন একটি ফিল্ড যেখানে প্রচুর কম্পিটিটর। এবং বর্তমান সময়ে আপনাকে ব্লগিং করতে হলে প্রচুর প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

এবং তা ছাড়া ব্লগিং এমন কিছু বিষয় নয়, যা আপনি কিছুদিনের মধ্যে শিখে নিতে পারবেন।

আপনাকে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে, নতুন কিছু শিখতে হবে। এবং অতপর এক সময় আপনার নিজে থেকেই ব্লগিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান চলে আসবে।

সঠিক নিয়মে আর্টিকেল লেখার জন্য।

প্রথম অবস্থায় সবারই আর্টিকেল লিখতে প্রচুর বিরক্ত লাগে। এবং যদি আপনি এমন বিরক্ত অবস্থায় আর্টিকেল লিখেন।

তবে আপনি সঠিক ভাবে আপনার পাঠকের সামনে সব কিছু বিস্তারিত করে উপস্থাপন করতে পারবেন না।

এবং তা ছাড়া আপনার আর্টিকেল এসইও অপ্টিমাইজ করে তুলতেও আপনাকে প্রচুর বেগ পেতে হবে।

কেবল তাই নয়, আপনি সার্চ ইঞ্জিন থেকে কখনই ভিসিটর পেতে পারবেন না।

তাই জন্য সঠিক নিয়মে বিস্তারিত করে আর্টিকেল লেখা ব্লগিং এর জন্য অনেক দরকারি।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য।

যদি আপনি ভেবে থাকেন, আর্টিকেল এক প্রকার লিখলেই চলছে। কি জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে জাব।

তবে আপনি জেনে রাখুন, যদি আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ না করে আর্টিকেল লিখছেন তাহলে আপনি কখনই ব্লগ থেকে সফলতা পাবেন না।

কেননা সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিসিটর পেতে আপনাকে অবশ্যই কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে।

এবং সঠিক নিয়মে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে আপনাকে প্রচুর সময় দিতে হবে।

যার জন্য আপনাকে সব কিছুর জন্য সময় বের করে নিতে হবে।

সঠিক নিয়মে ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজ করার জন্য।

নিয়মিত হয়ে ওয়েবসাইট স্পীড বা অপ্টিমাইজেশনের দিকে ধ্যান রাখা খুবই দরকারি।

কারণ বর্তমান সময়ে যদি আপনার ওয়েবসাইট স্পীড ভাল থাকে ও আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন গুলোর চাহিদা অনুসারে অপ্টমাইজ করা থাকে।

তাহলে সার্চ ইঞ্জিন থেকে প্রচুর ভিসিটর পেতে পারবেন।

এবং এমনও হয় আপনি আজ আপনার ওয়েবসাইট ভাল করে অপ্টিমাইজ করে রেখেছেন।

কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটে ব্যাবহারক্রিত কোন থিম বা প্লাগইন আপডেট দেওয়ার পর আপনার ওয়েবসাইট স্পীড বা ওভারঅল পারফর্মেন্স কমে যেতে পারে।

যার জন্য নিয়মিত ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজেশনের উপর ধ্যান দিয়ে যেতে হবে।

ওয়েবসাইট সিকিউরিটির দিকে ধ্যান রাখার জন্য।

হ্যাঁ, আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ সঠিক ভাবে রাখতে আপনাকে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট সিকিরিটি নিয়ে ভাবতে হবে।

কেননা অনেক সময়, আপনার ওয়েবসাইট যখন কিছুটা জনপ্রিয় হতে শুরু করবে।

তখন হ্যাকারেরা আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টা করতে পারে।

এবং অনেক সময় আপনার ওয়েবসাইটে বট ট্র্যাফিক পাঠিয়ে আপনার ওয়েবসাইট ডাউন করে দিতে থাকে।

যার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের সিকিরিটির বিষয়ে সর্বদা গুরুত্ত দিতে হবে।

টেকনিক্যাল সমস্যার দূর করতে?

অনেক সময় নিজের অজান্তেই কিছু ভুল হয়ে থাকে। যার ফলে অনেক রকম টেকনিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

এবং তা ছাড়া একটি ওয়েবসাইট লাইভ রাখার খেত্রে কিছু ছোট বড় টেকনিক্যাল সমস্যার সমুখিন হতে হবে।

যার জন্য আপনাকে এসকল কিছু সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। এবং ধিরে ধিরে শিখে নিতে হবে।

কেননা এসকল টেকনিক্যাল জটলতা আপনি প্রথম দিনেই শিখে নিতে পারবেন না।

সময়ের সাথে সাথে আপনার অভিজ্ঞতা চলে আসবে।

এবং এই অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য, আপনাকে আপনার ব্লগে প্রচুর সময় দিতে হবে।

তাহলে এতখনে নিশ্চয়ই বুজতে পেরেছেন, কেন ব্লগিং করার জন্য রুটিন তৈরি করতে হবে।

কেননা এতো বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে আপনাকে।

ব্লগিং করার জন্য কিভাবে রুটিন তৈরি করবেন?

উপরে উল্লেখিত হেডলাইন গুলো থেকে নিশ্চয়ই জানতে পেরেছেন সঠিক নিয়মে ব্লগিং করার জন্য আপনাকে কত বিষয়ের দিকে ধ্যান রাখতে হবে।

যে কারনে এতো কিছু কেবল ইচ্ছা মত সময়ের মাঝে করে নেওয়া হয়ে উঠবে না।

যার জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি রুটিন তৈরি করে নিতে হবে।

আমি নিচে বিস্তারিত ভাবে বলছি কিভাবে ব্লগিং করার জন্য রুটিন তৈরি করে নিতে হবে।

# আর্টিকেল লেখার জন্য সময় বের করুণ

হ্যাঁ একটি ওয়েবসাইট মেইন্টেইন্স করার সব কিছু আপনি এক সাথে করে নিতে পারবেন না।

যার জন্য ব্লগিং করবার জন্য প্রত্যেকটি কাজ আলদা,আলাদা ভাবে করে নিতে হবে।

এই জন্য আপনাকে প্রথমেই শুধু আপনার ব্লগে আর্টিকেল লেখার জন্য সময় বের করে নিতে হবে।

হোক সেটা দিনে অথবা রাতে।

অর্থাৎ শুধু আপনার ব্লগে আর্টিকেল লেখার জন্য নির্দিষ্ট করে সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে।

# কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য আলদা ভাবে সময় বের করুণ

হ্যাঁ, কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য আপনাকে আদালা ভাবে সময় বের করতে হবে।

কেননা একই সাথে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা ও ব্লগের অন্যান্য কাজ করা সম্ভব নয়। এতে করে আপনি সব কিছু সুন্দর ভাবে করতে পারবেন না।

আরও সহজ করে বললে আপনি যখন কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন তখন আপনার ব্লগের আর অন্য কোন বিষয়ের উপর নজর রাখবেন না।

শুধু কিওয়ার্ড রিসার্চ রাখতে হবে।

# সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আদালা সময় বের করুণ

যদি আপনি একই সাথে নিজের ব্লগের কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার ও অন্যান্য কাজে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করেন।

তাহলে আপনার জন্য কিছুটা বাজে সময় নষ্ট হবে।

মাথায় রাখতে হবে, আপনার কাজ একদিকে এবং অন্যদিকে সব কিছু।

তবে যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ও আপনার কাজ দুই এক সাথে করে নিতে পারেন, তবে তা করতে পারেন।

# নিয়মিত ওয়েবসাইটের দিকে ধ্যান রাখার জন্য সময় করুণ

আপনার ওয়েবসাইটের উপর নিয়িমিত করে নজর রাখতে আপনাকে আদালা করে সময় বের করে নিতে হবে।

যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের স্পীড অপ্টিমাইজেশন ও টেকনিক্যাল সমস্যা এবং অন্যান্য বিষয় গুলো ডিল করতে হবে।

কেননা যদি আপনি আপনার ব্লগের প্রতিটা কাজ করবার জন্য নির্দিষ্ট করে সময় বের করে নিতে পারেন।

তবে আপনার ব্লগে করা প্রতিটা কাজই হবে পারফেক্ট।

এই সব কিছু কিভাবে করবেন?

এটা আসলে নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি যেভাবে যখন সময় বের করতে পারবেন তখন সেভাবেই সেই সময় কাজে লাগাবেন।

তবে ধ্যান রাখবেন সময় টা জেনে নিয়মিত হয়। এমন নয় আজ আপনি এই সময়ে আর্টিকেল লিখছেন এবং তারপর কয়েক সপ্তাহ পরে অন্য একটি আর্টিকেল লিখছেন।

আপনি যা কিছু করবেন তার সব কিছুরই একটি পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

যাতে করে আপনি নিয়মিত আপনার ব্লগের কাজ গুলো সুন্দর ভাবে করে নিতে পারেন।

ব্লগিং করার জন্য কত সময় দেওয়া উচিৎ?

এই বিষয় টিও নির্ভর করছে আপনি কিভাবে ব্লগিং করবেন বা করছেন তার উপর।

জেনে রাখুন আপনি যদি সব কিছু রুটিন করে করে নিতে পারেন তবে প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্তা সময় ব্লগিং এর জন্য দিতে পারেন।

এবং আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের কাজ গুলো আরও সহজ ভাবে করে নিতে পারেন তবে আরও কিছু অল্প সময়ে তা করে নেওয়া যেতে পারে।

সত্য বলতে এই প্রশ্নের সঠিক কোন উত্তর হয় না।

এটা সম্পূর্ণ ভাবেই নির্ভর করছে পারসন টু পারসনের উপর। যে, যেমন যেভাবে কাজ গুলো করে নিতে পারে।

মুলকথা,,

এই আর্টিকেলে আমরা শেয়ার করেছি,ব্লগিং করার জন্য কিভাবে রুটিন তৈরি করতে হয়।

বা কেন ব্লগিং করার জন্য রুটিন তৈরি করা উচিৎ।

আমরা মনে করি যদি আপনি ব্লগিং করে থাকেন বা ব্লগিং শুরু করবেন, তার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই ব্লগিং করবার জন্য রুটিন করে নেওয়া উচিৎ।

আমরা আশা করছি, আপনি নতুন কিছু জানতে পেরেছেন। এবং এই আর্টিকেল সম্পর্কিত আপনার কিছু জানার বা মতামত থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের তা জানাতে ভুলবেন না।

Hi, i'm Akash Golder, Author & founder of LarnBD , A blog that provides authentic information regarding technology, blogging, SEO, online earn money, how to guide & much more.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *