বর্তমান তারিখ:August 12, 2020

ব্লগিং মানেই কি শুধু লেখালিখি করা! নাকি আরও কিছু?

ব্লগিং মানেই কিন্তু ভালবাসা! হ্যাঁ শুধুই ভালবাসা...!

ব্লগিং-মানেই-কি-শুধু-লেখালিখি-করা-নাকি-আরও-কিছু

আমি আমার ব্লগিং লাইফ এর ৩ টি বছর অতিক্রম করে ফেললাম! শিখেছি অনেক কিছু, অনেক কিছুই নিজের উপর ইমপ্লিমেন্ট ও করেছি! এবং পরিশেষে অনেক টা ভালো করতে পেরেছি। তবে হ্যাঁ, ব্লগিং মানেই কিন্তু শুধু লেখালেখি না। ব্লগিং এর ভিন্ন একটা পৃথিবী আছে। এবং সেই পৃথিবীতে যতদিন না পর্যন্ত নিজেকে গুছিয়ে উঠতে পারবেন ততদিন আপনি ব্লগিং করতে পারবেন না। হুম, এটা ১০০% সত্য। ওকে চলুন আপনাকে আমার নিজের ব্লগিং এক্সপ্রিয়ান্স শেয়ার করি। তাহলে সব টা বুজতে আপনার জন্য অনেক টা সুভিদা হবে!

ব্লগিং মানেই শুধু লেখালেখি!

ইম, সময় টা ২০১৬ এরকম হবে, আমি ইন্ডিয়ান একজন অনেক বড় পপুলার ব্লগার উনাকে দেখে মারাত্তক রকম বাজে ভাবে উৎসাহিত হয়ে পড়ি ব্লগিং করবার জন্য। ভেবেই বসি হ্যাঁ আমিও ব্লগিং শুরু করে দিবো, এবং নিজের ক্যারিয়ার এই ফিল্ডেই বিল্ড করবো। এটা কোন অসম্বব কাজ নয় যে আমি পারবো না। শুধু তো লিখতেই হবে, আর তা ছাড়া এখন ইন্টারনেট হাতে থাকা মানেই তো পৃথিবীর সব কিছুর উপর নিজের নজর রাখা। সো আমার ব্লগিং করতে মেবি তেমন বেগ পেতে হবে না! বাট ব্রো আই অজ টোটালি রং…!

আমি যে সম্পূর্ণ ভুল ইহা আমি বুজতে সক্ষম হয়, আমার ব্লগিং জার্নির কয়েক মাস পরে থেকে, হুম আনুমানিক আমি ১৫/১৬ টা এরকম আর্টিকেল লেখার পরে গিয়ে বুজতে পারি। ইহা আমার কম্ম নয়! কি হচ্ছে এসব আমি এখন কি লিখবো কিছুই তো বুজতে পারছি না, অথচ; যখন আমি ব্লগিং শুরু করব ভেবেছিলাম তখন কত কিই না ভেবেছিলাম। ব্লগিং একদম দুধ-ভাত, ব্লগিং করা কি অনেক কঠিন কিছু নাকি! শুধু লিখতেই হবে আর শুধু লিখতেই হবে!

কিন্তু দু-দিন মাস পরে গিয়ে আমার মনে হতে থাকে, তখন তো ভেবে ছিলাম যে শুধুই লিখতে হবে, শুধুই লিখতে হবে — কিন্তু এখন তো দেখছি মহা প্যাঁরা। আমি কি লিখবো বা কিভাবে লিখবো কোন জায়গা থেকে শুরু করবো কিছুই তো বুজতে পারছি না। হায়,হায় এতো দেখি মারাত্মক রকম ফাইল একটা প্যাঁরা। তো এভাবেই কিছু দিন যাওয়ার পর চিন্তা করলাম না দেখি আমি পারি কি না! অন্যরা যদি পারে তাহলে আমি কেন পারবো না। তারপর এভাবেই নিজেকে নিজে অনেক বেশি রকম ভাবে মোটিভেট করে শুরু করলাম সব কিছু। বাট কষ্টের হলেও সত্যি ইহা — আমি নিজেকে অনেক বেশি দিন মোটিভেট রাখতে পারি নি। ফলে তখন আবার কিছুদিন সব কিছু অফ দিতে হল।

তারপর হঠাৎ করে একদিন মনে হল। আচ্ছা ইচ্ছার বাইরে গিয়েও কি কখনও কিছু করে উঠা পসেবল? প্রস্ন টা নিয়ে অনেক বেশি রকম ভাবলাম; একটা সময় উত্তর পেলাম ঠিক এমন কিছু; আমি যে কাজ টি করতে ইচ্ছুক সেই কাজ করার মাঝে যদি নিজের ইচ্ছা ও ভালো লাগা না থাকে তাহলে আমি আমার কাঙ্খিত কাজ টি ঠিক ভাবে করবো কিভাবে? ওয়েল, বুজতেই পারছেন তখন কিছুটা হলেও নিজেকে নিজে খানিক টা চিনতে সক্ষম হতে থাকলাম। এবং সর্বোপরি যে জিনিস টা আমি বুজলাম ব্লগিং মানেই শুধু লেখালেখি না; এর বাইরেও অনেক কিছু। ব্লগিং মানে এক প্রকার ভাল লাগা, আবেগ ও ভালোবাসা। এবং এই সব গুলা জিনিসের থেকে যাহার উৎপত্তি হয় আমার মতে তাহাকেই ব্লগিং বলে। অন্তত আমার কাছে এটাই মনে হয়, ও আমি এই বিষয় টা মনে প্রাণেই বিশ্বাস করি।

কেননা আমার কাছে ব্লগিং মানে, নিজের ভাল লাগা, নিজের লাইফের অনেক টা আবেগ এবং অনেক টা সময় যা আমি ব্লগিং এর পিছে খরচ করেছি ও ধিরে ধিরে আমার ব্লগিং ক্যারিয়ার কে বুজতে ও মারাত্মক রকম গুড ভাবে বিল্ড করতে পেরেছি। সত্যি কথা বলতে কি সহজ কথায় আমার কাছে ব্লগিং মানে ভালবাসা! হুম আপনি যদি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার কে ঠিক ভাবে ভালবাসতে না পারেন তাহলে হয়তবা ব্লগিং ও আপনাকে ঠিক ভাবে ভালবাসবে না!

ব্লগিং মানেই অর্থ উৎপাদন করার মেশিন

এটাই সব থেকে বাজে কারন যার জন্য মুলত আমি আমার ব্লগিং লাইফে অনেক টা বাজে সময় ফেচ করেছি! সত্যি কথা কি — ব্লগিং কোন কালেই টাকা ছাপানোর মেশিন ছিল না এবং আজও নেই। ব্লগিং খুব সহজ কিছু নয়। প্রথমে ব্লগিং ক্যারিয়ার টা ঠিক ভাবে বিল্ড করতে হবে আস্তে আস্তে নিজের ব্লগ কে একটা বেটার যায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করতে হবে। ব্যাস যখন নিজের ব্লগ কে একটা বেটার যাওয়ায় নিয়ে যাওয়া পসেবল হবে! তারপর থেকে এমনিতেই অর্থ উৎপাদন হওয়া শুরু হয়ে যাবে!

ব্রাদার আসলেই তাই; আমিও যখন প্রথম ব্লগিং শুরু করি তখন শুধু চিন্তা এটাই ছিল যে আমি ব্লগিং করবো ও তার থেকে টাকা ইনকাম করবো। বাট আর কি; ব্লগিং তখন আমাকে হাতে কলমে বুঝিয়ে বলব, বস আপনার চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আনুন অন্যথায় আপনাকে দিয়ে ব্লগিং তো হবেই না। আর ইনকাম এটা আপনি ভুলে যান। ইহা কোন ভাবেই পসেবল নয়!

আসলে ব্লগিং শুরু করে দেওয়ার দু-চার দিন পর থেকেই শুধু চিন্তা থাকে যে কবে থেকে আমার ইনকাম হওয়া শুরু করবে? কেন হচ্ছে না? এরকম আরও হাজারো প্রস্ন মাথায় প্রচণ্ড প্যাঁচ কসতে থাকে। আর তার ফলে সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে লেগে যাই কিভাবে দু চার দিনে, দু-চার টে কন্টেন্ট পাবলিশ করে টাকা ইনকাম করা যায় তার পিছে। আর এ জন্যই আমাদের সব কিছুই বিসর্জন করতে হয়! না আসে ইনকাম না নিজের ব্লগকে নিয়ে যাওয়া যায় কোন বেটার যায়গাতে!

তাই জন্য ব্লগিং শুরু করে দেওয়ার পর অর্থ উৎপাদন ইহা একদম ভুলে থাকতে হবে অন্তত একটা বছর! একটা বছর শুধু নিজের ব্লগকে আগলে রেখে কাজ করে যেতে হবে। নিজের কাজের উপর যদি ভালবাসা থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই অবশ্যই অনেক বেটার কিছু করতে পারবেন; আর বেটার কিছু করতে পারা মানেই কিন্তু অর্থ উৎপাদন হওয়া শুরু হয়ে যাওয়া!

প্রচণ্ড হার্ড ওয়ার্ক করব!

কিচ্ছু হবে না ব্রাদার, প্রচণ্ড কেন আপনি যদি অসম্ভব মারাত্মক ভাবেও হার্ড ওয়ার্ক করেন তাহলেও কিছু হবে না; যদিনা আপনি আপনার কাজকে ভালবাসেন। আপনি আপনার কাজ কে ভালবাসুন দেখবেন আপনাকে মারাত্মক রকম হার্ড ওয়ার্ক করতে হচ্ছে না! আপনা,আপনি সব টাই অনেক ভাল হচ্ছে! তার কারন যখন আপনি আপনার কাজ কে ঠিক ভাবে ভালবাসবেন ও বুজতে পারবেন তখন কিন্তু আপনি আপনার বেষ্ট দেওয়ার চেস্টা করবেন! চেস্টা করবেন কি বলছি, আপনি যদি আপনার কাজ কে ভালবাসতে পারেন তাহলে আপনি সর্বদাই নিজের মত করে নিজের বেষ্ট দিবেন।

আর যখনি নিজের বেষ্ট দিতে পারবেন তখন আপনার প্রচণ্ড রকম হার্ড ওয়ার্ক করবার ও কোন প্রয়োজন পড়বে না। কারন আপনি যেহেতু আপনার কাজ টি ভালবাসে করছেন ও নিজের বেষ্ট দিচ্ছেন, তখন হার্ড ওয়ার্ক এর কোন দরকারই পড়বে না। সহজেই নিজের বেষ্ট বের করে আনতে পারবেন। কিন্তু হার্ড ওয়ার্ক করে নিজের বেষ্ট বের করতে চাওয়াটা অনেকটা বোকামি হতে পারে। কারন আপনাকে তখনই অনেক বেশি হার্ড ওয়ার্ক করতে হয়, যখন আপনি সহজেই নিজের বেষ্ট দিতে পারেন না। নিজের ভেতরের বেষ্ট বের করতে গিয়ে অনেক বেগ পেতে হয়। তাই এখানেও বলতে চাই হার্ড ওয়ার্ক করবার কোনই আবশ্যকটা নেই। জাস্ট নিজের কাজ কে খুব বেশি রকম ভাবে ভালবাসুন ও ভালবাসা দিয়ে নিজের বেষ্ট দেওয়ার চেস্টা করুন!

ইচ্ছা শক্তি ব্রিধি করা

প্রচণ্ড মোটিভেট আপনি! কাউকে দেখে মাত্রাদিক মোটিভেট হয়ে গিয়েছেন এবং আপনিও চিন্তা করলেন হুম আই ক্যান ডু ইট। হা,জি ঘন্টা এসব মোটিভেট দু-চার দিনের বেশি থাকে না; তারপর হাওয়াতে মিলিয়ে যাবে সব কিছু। আর একটা কথা মোটিভেট হয়ে ব্লগিং করতে যাওয়া আর নিজেকে নিজেই পচা পুস্কুনিতে চুবানো একবারে সেইম কথা। মোটিভেট শেষ আপনার কাজ করার ইচ্ছা শক্তি শেষ। আপনাকে তারপর আবার মোটিভেট এর চার্জ নিতে হবে। অন্যথায় আপনাকে দিয়ে আর হবে না!

আসলে ইচ্ছা শক্তি ব্রিধি করবার কথা বলছি তার কারন আপনি যদি আপনার ইচ্ছার উপর কন্ট্রোল রাখতে পারেন তাহলে আপনি নিজেকে ঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। আর তা না হলে দু-দিন পর পর মোটিভেট হওয়া লাগবে। আসলে সব কথার শেষ কথা এটা আপনার কাজ কে ভালবাসতে হবে, কেবল তবেই সব কিছু সম্বব। না হলে ওই কারো দেখা দেখি স্টার্ট করে দিলাম তারপর, কিছুদিন পর হাত- পা ছেড়ে আর কাজ নেই বলে অফ হয়ে গেলাম, তখন সম্পূর্ণ বিষয় টা এরকমই হবে।

তো সব কিছুর শেষ বিষয় টা আসলে এমন ব্লগিং মানে শুধু লেখালেখি নয়,বরং ব্লগিং মানে হচ্ছে আবেগ, ভালোবাসা, ও নিজের স্বপ্ন এই সব কিছু মিলিয়েই ব্লগিং… ব্লগিং মানেই শুধু লেখালেখি নয়!!!

ইমেজ ক্রেডিট; By Kaboompics .com Via Pexels

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *