ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন (বিস্তারিত)

ফ্রিল্যান্সিং কি

বর্তমানে বাড়িতে থেকেই অনলাইনে উপার্জন করবার অনেক জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। এবং দিন দিন ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদা ও কিন্তু বেড়ে চলেছে।

আপনার হাতেও কিন্তু সময় রয়েছে, চাইলে আপনিও নিজের বাড়িতে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক টাকা উপার্জন করে নিতে পারবেন।

তবে তার পূর্বে, ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করতে হয়, এ সকল বিষয়ের উপর পুরনাজ্ঞ জ্ঞান রাখাটা অনেক খানি জরুরি।

অনেক সময় এমন হয়, আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে অধিক আগ্রহী। তবে আপনি বুজতে পারছেন না কিভাবে শুরু করবেন। বা ফ্রিল্যান্সিং শিখবার জন্য কি কোর্স করবেন, বা কিভাবে শুরু করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

তাহলে চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই।

আজকের আর্টিকেলে ফ্রিল্যান্সিং কি? ও কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন তা সব কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত আলচনা করব।

কেবল তাই নয় Freelancing নিয়ে নতুনদের মাঝে অনেক দ্বিধা ও দন্ধ কাজ করে। আমরা সে সকল বিষয় সম্পর্কেও আলচনা করব।

এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন তা সম্পর্কে, একটি সঠিক গাইডলাইন প্রদান করবার চেষ্টা করব।

ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বুঝায়?

ফ্রিল্যান্সিং অর্থাৎ মুক্তপেশা। আরও সহজ করে বললে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন কাজ, যে কাজের মালিক একমাত্র আপনি নিজেই। যেখানে নেই কোন বসের বকা খাওয়ার ভয়। নেই চাকরি হারানোর ভয়।

আপনি আপনার মালিক, এবং আপনার কাজের আপনিই কর্মচারী।

আরও সহজ করে বললে, ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা আপনি খুব সহজেই নিজের বাড়িতে থেকে, আপনার কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাবহারের মাধ্যমে করতে পারবেন।

এবং আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে একটি রেগুলার চাকরি’তে যা বেতন পেয়ে থাকেন, তার থেকে আরও অনেক বেশি উপার্জন করতে পারবেন।

তবে হ্যাঁ, ফ্রিল্যান্সিং করে উপার্জন করতে চাইলে অবশ্যই আপনার মাঝে কিছু কাজের দক্ষতা অবশ্যই থাকা চাই। যা সম্পর্কে নিচে আলচনা করা হবে।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি পেশা, যে পেশায় আপনাকে কোন কম্পানি বা অর্গানাইজেশন কর্মচারী হয়ে কাজ করতে হবে না।

আপনি আপনার নির্দিষ্ট কাজের স্কিল অনুয়াজি অন্যকে সাহায্য করবেন। এবং তার বিনিময়ে আপনি উপার্জন করতে পারবেন।

যেমন টা, আপনি কোন চাকরিতে করে থাকেন। অর্থাৎ আপনি সম্পূর্ণ মাস ধরে কোন কম্পানিতে চাকরি করছেন। বা কোন কম্পানির হয়ে কাজ করে দিচ্ছেন, এবং মাস শেষ আপনি বেতন পাচ্ছেন।

ফ্রিল্যান্সিং বিষয় টাও ঠিক এমনই। তবে এখানে আপনাকে প্রতি মাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

বা আপনি চাকরিতে যেমন নির্দিষ্ট আমাউন্ট এর টাকা পেয়ে থাকেন। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে বিষয় টা এমন নয়। এখানে আপনি যেমন কাজ করবেন, ইনকাম ও তেমন করে নিতে পারবেন।

আরও একটু সহজ ভাবে বললে, আপনার একটি বিষয়ের উপর প্রচুর দক্ষতা রয়েছে। আপনি সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে অন্যর হয়ে কাজ করে দিবেন। এবং তার বিনিময়ে টাকা পাবেন।

তবে, এই কাজের মালিক সম্পূর্ণ আপনি নিজেই। আপনার যখন যেভাবে খুশি কাজ করবেন। আপনাকে চাপ দেওয়ার কেউ থাকছেনা।

আপনার যখন ও যেভাবে ইচ্ছা শুধু কাজ গুলো করে আপনার ক্লাইন্ট এর হাতে পৌঁছে দিবেন। আর বিনিময়ে টাকা ইনকাম করে নিবেন, ব্যাস।

বা এভাবেও বলা চলে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এক প্রকার ব্যবসা। যেখানে আপনার পুঁজি হচ্ছে আপনার স্কিল বা দক্ষতা।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে কাজ করে?

মনে করুন আপনি একজন ফ্রীলান্সার হায়ার করলাম আমার ওয়ার্ডপ্রেস এর কিছু কাজের জন্য। এবং তার জন্য আমি যে ফ্রীলান্সার কে হায়ার করেছি তাকে কিছু পেমেন্ট করতে হবে।

এবং তার বিনিময়ে সে আমাকে আমার সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে।

ঠিক এভাবেই ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে। অর্থাৎ আপনি কোন একটি কাজ একজন ফ্রীলান্সার কে দিয়ে করিয়ে নিবেন এবং সব কিছুর শেষে তাকে পেমেন্ট করে দিবেন।

আরও সহজ ভাবে বললে, আপনার হয়ে একজন ফ্রীলান্সার কোন স্পেসিফিক কাজ করে দিবে। এবং বিনিময়ে আপনাকে তাকে তার কাজের জন্য পেমেন্ট দিতে হবে।

কেন এতো মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এ নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে চায়?

প্রতিনিয়ত মানুষ কেন ফ্রিল্যান্সিং করবার দিকে এতো বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে, জানেন কি? কারণ ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি পেশা যা করবার মাধ্যমে আপনার ক্যারিয়ার অনেক স্বচ্ছ করে নিতে পারবেন।

এবং চাইলে শুধু ফ্রিল্যান্সিং করেই স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবে নিজের ক্যারিয়ার দাড় করিয়ে নিতে পারবেন।

তবে এখানে যে মুল বিষয় তা হচ্ছে, আপনাকে একজন ভাল ও দক্ষ ফ্রীলান্সার হতে হবে। কেবল তবেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন।

আসলে আমরা সকলেই অনলাইনে কাজ করে উপার্জন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করি। এবং অনলাইনে উপার্জন করবার জন্য সেরা রাস্তা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

আর তাই জন্য এতো এতো মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করতে ইচ্ছুক।

এবং আপনি একটু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো তে গিয়ে দেখুন। ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদা দিন দিন প্রচুর বেড়ে চলেছে। ও ফ্রিল্যান্সিং করে অনেকেই নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করে নিয়েছে।

যার জন্য এখন সকলেই কেবল ভেবে থাকে, নিজের ক্যারিয়ার ফ্রিল্যান্সিং এ তৈরি করতে।

ফ্রিল্যান্সিং করে আমি কত টাকা ইনকাম করতে পারব?

দেখুন ফ্রিল্যান্সিং কোন সামান্য বিষয় নয়। আপনার কাজের স্কিল যেমন ও আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

আপনার কাজের দক্ষতা বেশি থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর টাকা উপার্জন করে নিতে পারবেন।

এক কথায় আপনি যত বেশি দক্ষতা থাকবে, ঠিক তত টাকাই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারবেন।

সাধারন ভাবে আপনি যদি একজন ওয়ার্ডপ্রেস ডেভলপার হয়ে কাজ করেন, তবে প্রতি ঘন্টায় আপনি 5/15$ ভাল করেই ইনকাম করে নিতে পারবেন।

এবং যদি আপনি একজন প্রফেশনাল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে কাজ করতে থাকেন তবে আপনি প্রতি ঘন্টায় মিনিমাম 70/85$ ইনকাম করতে পারবেন।

আসলে ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি ঠিক কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন তা স্পেসিফিক ভাবে বলা সম্ভব নয়। ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করবার বিষয় টা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে থাকছে, আপনার স্কিল বা দক্ষতার উপর।

ফ্রিল্যান্সিং করে আমি কি ধরনের কাজ করতে পারি?

আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক ধরনের কাজ করতে পারেন। এবং এমন কিছু কাজ ও আছে যা অত্তাধিক সহজ।

আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে প্রথমেই অধিক ভারি কাজ করতে হবে, বিষয় টা এমন নয়।

আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে কি ধরেনের কাজ করতে পারেন, তা সম্পর্কে আমি নিচে বিস্তারিত আলচনা করছি।

#:Writing (রাইটিং)

হ্যাঁ শুধু লেখালেখি করেই কিন্তু আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারেন। এবং এসকল কাজ করেও কিন্তু আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

যেমনঃ-

  • Copywriting: – পিডিএফ ফাইল বা ডকুমেন্ট থেকে কপি পেস্ট করতে হবে, এই কাজ টি করতে পারেন।
  • Editing:- কিছু টেক্সট এর মাঝে ভুল আছে তা সংশোধনের কাজ করতে পারেন।
  • Content Writing:- কোন কম্পানি বা, ব্লগ এর জন্য কনটেন্ট তৈরি করে দেওয়ার কাজ করতে পারেন।
  • Writing Tutoring:- আপনি লিখতে অনেক পারদর্শী, তবে আপনি কিভাবে ভাল করে লিখতে হয় তা সম্পর্কে টিপস দিতে পারেন।
  • Technical Writing:- আপনি টেকনিক্যাল বিষয় গুলো খুব সহজ করে বলতে পারেন। তবে আপনি টেকনিক্যাল বিষয় গুলি সম্পর্কে লেখালেখির কাজ করতে পারেন।
  • Business Writing:- আপনি ব্যবসা বিসয়ক পরামর্শ দিতে খুবই পটু, তবে আপনি ব্যবসা বিসয়ক বিষয়ের উপর লেখার কাজ করতে পারেন।
  • Creative Writing:- অন্নের থেকে আপনি চিন্তা শক্তি ভাল। তবে নিজের মত সহজ করে লেখালেখি করে তা বিক্রি করতে পারেন।

#:Admin Support

এই কাজেরও কিন্তু বর্তমানে মার্কেটে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি চাইলে Admin Support Jobs দিয়েই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারেন।

যেমনঃ-

  • Virtual Assistant:- অন্যর সহকারি হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।
  • Project Management:- বড় বড় প্রজেক্ট গুলো মানেজমেন্ট এর দায়িত্বর কাজ করতে পারেন।
  • Data Entry:- ডাটা এন্ট্রির কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন।
  • Online Research:- অনলাইনে রিসার্চ এর কাজ করতে পারেন।
  • Order Processing:- অর্ডার প্রসেসিং এর কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

#: Design and Creative

আপনার যদি ভাল ডিজাইন করবার দক্ষতা থাকে, তবে আপনি এই কাজের মাধ্যমে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যেমনঃ-

  • Animation:- অ্যানিমেশন তৈরির কাজ করতে পারেন।
  • Motion Graphics Design:- মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজ করতে পারেন।
  • Audio Production:- অডিও তৈরি কাজ করতে পারেন।
  • Video Production:- ভিডিও তৈরি কাজ করতে পারেন।
  • Graphic Design:- গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ করতে পারেন।
  • UX/UI Design:- ইউএক্স ও ইউআই তৈরির কাজ করতে পারেন।
  • Art and Illustration:- ইলাস্ট্রেশন করে ছবি তৈরি কাজ করতে পারেন।
  • Photography:- ছবি তোলার কাজ করতে পারেন।
  • Videography:- ভিডিও করবার কাজ করতে পারেন।

#: Web, Mobile, and Software Development

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এ সব থেকে ওয়েব, মোবাইল ও সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট এর কাজ গুলির চাহিদা সব থেকে বেশি। আপনি চাইলে এই সকল কাজ দিয়ে শুরু করে দিতে পারেন।

যেমনঃ-

  • Ecommerce Website Development:- ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি কাজ করতে পারেন।
  • Web Design:- ওয়েবসাইট ডিজাইন এর কাজ করতে পারেন।
  • Web Development:- ওয়েবসাইট তৈরি কাজ করতে পারেন।
  • Mobile Design:- মোবাইল ডিজাইন এর কাজ করতে পারেন।
  • QA & Testing:- প্রশ্ন উত্তর ও মান নির্ণয় এর কাজ করতে পারেন।
  • Game Development:- গেমস তৈরির কাজ করতে পারেন।

এ ছাড়াও আরও অনেক কাজ আছে, যার মাধ্যমে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং শিখে কাজ পাবো কোথায়?

অনেকেই মনে করেন। যে কোন একটি বিষয়ে দক্ষটা অর্জন করবার পর মুহূর্তে আমি কাজ পাবো কোথায়? বা কিভাবে আমি কাজ পাবো?

আপনাকে কাজ পেতে চাইলে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে গিয়ে নিজের জন্য একটি প্রোফাইল তৈরি করে নিতে হবে।

এবং তারপর মার্কেটপ্লেস গুলোর নিয়ম অনুসরন করতে হবে। যে কিভাবে আপনি আপনার কাজের জন্য ক্লাইন্ট পাবেন।

বর্তমানে সব থেকে জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেস এর সাথে আমি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।

  • Freelancer.com এই মার্কেটপ্লেস টি বর্তমানে সব থেকে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস।
  • fiverr.com ফাইভার ও কিন্তু খুবই জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।
  • Upwork.com আপওয়ার্ক এটিও খুবই জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।
  • Guru.com একদম নতুন ফ্রীলান্সার দের জন্য এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস টা খুবই ভাল।

আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী, এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ পেতে পারবেন।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করব?

তাহলে চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবার পূর্বে আপনাকে বিশেষ কিছু বিষয় মাথায় রেখে তারপর শুরু করতে হবে।

তবেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে টিকে থাকতে পারবেন। কারণ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে এতো বেশি কম্পিটিশন, যেখানে অবশ্যই ভাল কিছু ছাড়া টিকে থাকা যাবেনা।

আর তাই জন্য আপনাকে অবশ্যই নিচে বর্ণীত বিষয় গুলো মাথায় রেখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে ভাল হবে।

একটি লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া।

প্রথমেই আপনাকে নির্দিষ্ট করে একটি লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে। অর্থাৎ আপনি ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করতে চাইছেন।

বা ফ্রিল্যান্সিং বিষয় টা আপনি কিভাবে দেখছেন। বিষয় টা এমন ভাবে দেখবেন যা আপনাকে আপনার সিধান্তে অটুক রাখবে।

আরও সহজ করে বলছি, যে কোন একটি বিষয়ের উপর মনসংযোগ করতে হবে। অনেক কাজ এক সাথে করা বা শিখবার চেষ্টা করা চলবেনা।

আপনার একটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। যেমনঃ- আমার ফ্রিল্যান্সিং শিখতেই হবে ও ফ্রিল্যান্সিং করে আমাকে উপার্জন করতে হবে।

একটি লাভজনক নিশ নির্বাচন করতে হবে।

আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোর চাহিদা সম্পর্কে ঠিক ভাবে জ্ঞান রাখতে হবে ও বুজতে হবে এখন বা ভবিষ্যতে কি কাজের চাহিদা অধিক বেড়ে থাকবে।

আমি নিচে কিছু খুবই জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং নিশ সম্পর্কে বলছি।

  • Website Speed Optimization
  • SEO (Search Engine Optimization)
  • Local SEO
  • Website Design
  • Website Customization
  • WordPress Tutorial
  • Server Management

বর্তমানে, আপনি এই নিশ গুলো নিয়েও কাজ করতে পারেন। এই নিশ গুলোতে ঠিক ভাবে দক্ষটা অর্জন করে নিতে পারলে। আপনি খুব সহজেই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ পেতে পারবেন।

কিভাবে ওয়েবসাইট স্পীড অপ্টিমাইজ করবেন?

আপনার কাজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করুন।

আপনি যে বিষয়ের উপর দক্ষটা অর্জন করেছেন। অর্থাৎ আপনি যে বিষয় নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন সেই বিষয় সম্পর্কে একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করুন।

এবং আপনার তৈরি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে আপনার কাজের দক্ষতার নিদর্শন করান।

যেমনঃ- আপনি যে,যে বিষয়ে অভিজ্ঞ। ও আপনার কাজের দক্ষটা কেমন ও আপনি কি কি বিষয়ে পারদর্শী।

এবং আপনি পূর্বে অন্য কোন ক্লাইন্ট এর কাজ করে দিয়েছেন। চাইলে এমন কিছু ও আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটে রাখতে পারেন।

যদি নিজের কাজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করে রাখেন তবে আপনার প্রতি আপনার ক্লাইন্ট এর বিশ্বস্ততা ব্রিধি পাবে। ও আপনাকে একজন অভিজ্ঞ ফ্রীলান্সার মনে করবে।

ক্লাইন্ট খুঁজে বের করুন।

সব কিছুর শেষে আপনাকে ক্লাইন্ট খুঁজে বের করতে হবে। কেবল তবেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

কিভাবে ক্লাইন্ট খুঁজে বের করবেন?

ক্লাইন্ট খুঁজে বের করতে চাইলে, আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মারকেটপ্লেস গুলোতে গিয়ে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। ও তারপর আপনি কি,কি বিষয়ে সার্ভিস দিচ্ছেন তা সম্পর্কে বিস্তারিত গিগ তৈরি করে রাখতে হবে।

এবং আপনি কত দিনের মাঝে কাজের ডিলিভারি দিবেন ও আপনি কিভাবে চার্জ করবেন সে সকল কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত দিয়ে রাখতে হবে।

যদি আপনার দেওয়া সার্ভিস গুলোর মান অন্যদের থেকে ভাল হয়। তবে আশা করবেন আপনি কাজ পেতে থাকবেন।

ক্লাইন্ট এর সাথে দক্ষ ভাবে কথা বলতে শিখুন।

ফ্রিল্যান্সিং করবার খেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যেন আপনি ক্লাইন্ট এর সাথে ঠিক ভাবে কথা বলছেন।

যদি আপনি ঠিক ভাবে আপনার ক্লাইন্ট এর সাথে কথা বলতে না পারেন। তবে আপনার জন্য ও আপনার ক্লাইন্ট উভরের জন্যই বিষয় টা বিরক্তিকর হবে।

অনেক সময় শুধু ঠিক ভাবে কথা বলতে না পারবার জন্য, ক্লাইন্ট আপনার হাত ছাড়া হতে পারে।

তাই জন্য ক্লাইন্ট এর সাথে ঠিক ভাবে কথা বলা টা অত্তাধিক জরুরি। এবং ক্লাইন্ট এর সাথে কথা বলবার বিষয়ে আপনাকে অধিক নজর রাখতে হবে।

আমাদের শেষ কথাঃ-

এই আর্টিকেলে আমরা খুবই সহজ ভাবে আপনাকে বুঝিয়ে বলবার চেষ্টা করেছি ফ্রিল্যান্সিং কি? ও কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হয় তা সম্পর্কে।

তো আমরা আশা করছি, এই আর্টিকেল থেকে আপনি নতুন অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন।

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন। কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করবার চেষ্টা করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

>