টেকনোলজি নিয়ে কিছু ভুল ধারনা (টেক ফ্যাক্ট)

টেকনোলজি-নিয়ে-কিছু-ভুল-ধারনা-টেক-ফ্যাক্ট

প্রযুক্তি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, সেই অর্থে আমরা এখনো অনেক টাই পিছিয়ে আছি! বাট এভাবে আর কত দিন, এখন সময় এসেছে মুভ অন করার। টেক প্রযুক্তি বিষয়ে একটা পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখার, আর এ জন্যই আজকের এই আর্টিকেল টি আপনার জন্য লেখা যাতে করে আপনার মাঝেও টেক প্রযুক্তি নিয়ে এসব ভুল ধারনা আর না থাকে।

টেক প্রযুক্তি নিয়ে আমদের যে সব ভুল ধারনা আছে?

প্রথমেই যেমন টা বলছি প্রযুক্তি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, আমরা কিন্তু ঠিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে আগাতে পারছি না, এতো এতো ভুল ধারনা আছে আমাদের মাঝে এই টেক প্রযুক্তি নিয়ে যা বলার বাইরে। এবং এ জন্যই আমরা অনেক সময় এই টেক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও করতে পারি না। তো এভাবে আর কত চলুন এখন কিছু অদ্ভুব টাইপ এর ভুল টেক প্রযুক্তি ধারনা থেকে নিজেকে বের করে ফেলি।

মোবাইল ফোন ব্যবহার

এই মোবাইল ব্যবহার নিয়ে আমাদের মাঝে ভুল ধারনা হচ্ছে সব থেকে বেশি যেমন; অনেক সময় মোবাইল ব্যবহার করলে সমস্যা হয়, একটানা অনেক সময় নিয়ে মোবাইলে কথা বললে তাতেও সমস্যা হয়, মোবাইল চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে তাতেও প্রবলেম হয়, এবং মোবাইল রাতে মাথার পাসে নিয়ে ঘুমালে তাতেও সমস্যা হয়, এরকম হাবি জাবি অসংখ্য ভুল ধারনা আছে।

আচ্ছা কে বলছে এসব অদ্ভুত টাইপ এর কথা বলুন তো, দেখুন একটানা অনেক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে যেটা হয় তা হচ্ছে আপনার চোখের প্রবলেম হতে পারে, এবং আপনি অনিদ্রায় ভুগতে পারেন আর কিছুই না। আর হ্যাঁ আপনি যদি রাতের বেলায় অনেক সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাহলে সম্বব হলে নাইট মুড এনাবেল করেই মোবাইল ব্যবহার করবেন।

এখন তো সব মোবাইলেই নাইট মুড অপশন টা দেওয়া থাকে, আর যদি আপনি কোন পুরানো এন্ড্রয়েড মোবাইল উইজার হয়ে থাকেন তাহলে আপনি গুগল প্লে ষ্টোর থেকে নাইট মুড এনাবেল করার জন্য কোন আপস ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা আপনি Blue Light Filter এই আপস টিও ব্যবহার করতে পারেন।

মোবাইলে অনেক সময় কথা বললে প্রবলেম হয়

এবার আসি অনেক সময় মোবাইলে কথা বললে মোবাইল থেকে এক প্রকার রেডিয়েশন বের হয়, যার ফলে আপনার শারীরিক ভাবে সমস্যা হয়। এই ধারনাটা আমাদের মাঝে সব থেকে বেশি কিন্তু সত্যি কথা বলতে অনেক সময় ধরে মোবাইলে কথা বললে কিছুই না, হ্যাঁ এই যা অনেক সময় ধরে কথা বললে মোবাইল টা অনেক গরম হয়ে যায় ফলে আপনার মনে হতেই পারে যে এই বুঝি মোবাইল থেকে এখন অনেক বেশি রেডিয়েশন বের হচ্ছে, এখন যদি আর মোবাইলে কথা বলি তাহলে আমার প্রবলেম হবে।

না কিছুই হবে না। আর প্রবলেম যে হবে এটার কোন সায়েটিফিক ব্যাখ্যা ও নেই, তো আজ এখন থেকে আপনার মাথাও যদি এই ভুল চিন্তা ধারা থেকে থাকে তাহলে তা বের করে ফেলুন।

রাতে মোবাইল পাসে নিয়ে ঘুমালেও কি আপনার সমস্যা হবে?

এবার আসি রাতে যদি মোবাইল মাথার পাসে নিয়ে ঘুমানো হয় তাতেও প্রবলেম হতে পারে। হা জি ঘন্টা কিছুই হয়না, এটা সম্পূর্ণ একটা ভুল ধরনা। অবশ্য এই ভুল ধরনাটা মাথায় আসার একটা কারন ও আছে। আপনি বা আমি আমরা সবাই জানি যে মোবাইল থেকে সব সময় এক প্রকার রেডিয়েশন বের হয় আর এই রেডিয়েশন থেকে আমাদের মানব শরিরে প্রবলেম হয়।

কিন্তু সত্য কথা বলতে এটাই সব থেকে বড় রকম ভুল ধরনা যে মোবাইল থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় সেই রেডিয়েশন আমাদের শারীরিক ভাবে ক্ষতি করে। আমি আপনাকে উপরে যেমন টা বলেছি এটার সায়েটিফিক কোন ব্যাখ্যা নেই, যে মোবাইল থেকে নির্গত রেডিয়েশন মানব শরীরে কোন ক্ষতি করে। সো আপনি নিশ্চিন্তে আপনার মাথার পাসে হোক বা বালিশের নিচে হোক যেভাবে,যেখানে খুশি; সেখানে সেই ভাবে আপনার মোবাইল নিয়ে ঘুমাতে পারেন।

মোবাইল চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে প্রবলেম হয়

না কিছুই হয় না, আপনি চার্জে দিয়ে আপনার সাধের মোবাইল ফোন টা অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন। তবে মোবাইল চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে যা হয় তা হচ্ছে আপনার মোবাইল ফোন টি অসম্ভব রকম গরম হয়ে যায়, ঠিক এতোতাই গরম হয়ে যায় যে আপনি চাইলে আপনার মোবাইল ব্যবহার করে মাঝে মাঝে ডিম ভাজি করেও খেতে পারেন।

হা, হা হা, যাই হোক মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে সত্যি কথা বলতে তেমন বড় ধরনের কোন প্রবলেম হয় না। যা হয় তা হল আপনার মোবাইল তো গরম হয়ে যায় সাথে আপনার মোবাইলে অনেক ধিরে ধিরে চার্জ হয়, জাস্ট এতোতুকু আর কিছুই না।

তবে আপনি যদি আপনার মোবাইল টি অনেক দ্রুত চার্জ করতে চান তাহলে অবশ্যই মোবাইল চার্জে দিয়ে ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে কিছুই হয় না।

কম্পিটার ব্যবহার

কম্পিটার ব্যবহার নিয়েও কিন্তু আমাদের মাঝে ভুল ধরনার অভাব নেই; যেমন কত দিন পর পর কম্পিটারে উইন্ডোজ দিতে হয়, ঘন ঘন কম্পিটার রি-স্টার্ট করলে প্রবলেম হয়, ঘন ঘন রিফ্রেশ বাঁটন চাপলে কম্পিটার অনেক ফাস্ট হয়, এরকম হাবি জাবি আরও অনেক কিছু।

কত দিন পর পর কম্পিটারে উইন্ডোজ দিতে হয়?

দেখুন আপনি যদি একজন জেনুইন উইন্ডোজ ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ঘন ঘন উইন্ডোজ দেওয়ার কোন প্রয়োজনই নেই। কিন্তু আপনি যদি পাইরেটেড উইন্ডোজ ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ঘন ঘন উইন্ডোজ দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। কারন পাইড়েটেড উইন্ডোজ স্টাবেল হয় না, মাঝে মাঝে ব্লু-স্ক্রিন অফ ডেথ চলে আসে ফলে আপনার কম্পিটার অচল হয়ে পড়ে।আর তখনই আপনাকে আবার নতুন করে উইন্ডোজ দিতে হয়।

তো যাই হোক মুল গল্পে ফিরে আসা যাক, আপনি যদি একজন জেনুইন উইন্ডোজ ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে প্রতি ৬/৭ মাস পর নতুন করে একবার আপনার কম্পিটারে উইন্ডোজ দিতে পারেন। না দিলেও প্রবলেম নেই তবে যদি আপনি প্রতি ৬/৭ মাস পর পর নতুন করে উইন্ডোজ দেন তাহলে আপনার কম্পিটারের পারফর্মেন্স কিছুটা হলেও ব্রিধি পাবে।

আর আপনি যদি ক্রাক উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে যখনি আপনার সামনে ব্লু-স্ক্রিন অফ ডেথ আসবে তখনই উইন্ডোজ দিতে হবে। এ ছাড়া আর কোন গতি নেই। আর হ্যাঁ আপনার মাথায় যদি এই ভুল ধারনা টা থাকে; যে ঘন ঘন উইন্ডোজ দিলে কম্পিটেরের প্রবলেম হয় তাহলে আমি বলব কিছুই হয় না। যা হয় তা হচ্ছে আপনাকে নতুন করে উইন্ডোজ দেওয়ার সময় আপনার প্রচুর সময় নস্ট হয়, সব কিছু নতুন করে সেটাপ করতে হয় জাস্ট এটাই আর কিছুই না।

কম্পিটার ঘন ঘন রি-স্টার্ট করলে কি হয়

কিছুই হয় না, আপনি যদি ২ ঘন্টা কম্পিটার ব্যবহার করেন আর তার মাঝে ৪/৫ বার করে আপনার কম্পিটার রি-স্টার্ট করেন তাহলেও কিছুই হবে না, একদম কিছুই হবে না।

আপনি খেয়াল করে দেখে থাকবেন আপনি যখনি আপনার কম্পিটারে কোন নতুন সফটওয়্যার ইন্সটাল করেন, তখন অনেক সময় আপনার কম্পিটার রি-স্টার্ট করতে বলে। এটা কেন বলে থাকে জানেন কি? বলে থাকে তার কারন হচ্ছে আপনার কম্পিটারের হার্ডওয়ার্ড এর সাথে সেই কাঙ্খিত সফটওয়্যার টির স্টাবেলিটি ঠিক করার জন্য।

তো সব কথার শেষ কথা যদি আপনার মাথায় এই ভুল চিন্তা ভাবনা থেকে থাকে যে অনেক ঘন ঘন কম্পিটার রি-স্টার্ট করলে কম্পিটারে প্রবলেম হয়, তাহলে আজই আপনার মাথা থেকে এই চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিন।

বার বার কম্পিটার রিফ্রেশ করলে কম্পিতার ফাস্ট হয়!

এবার আসি একজন কম্পিটার ইউজার এর মাঝে লুকিয়ে থাকা সব থেকে ভুল ধারনা নিয়ে। অনেকেই মনে করে যে যদি উইন্ডোজ কম্পিটার বার বার রিফ্রেশ করা হয় তাহলে কম্পিটার অনেক বেশি ফাস্ট হয়ে যায়। মিথ্যা মিথ্যা মিথ্যা, কিছুই হয় না উল্টে বার বার কম্পিটার রিফ্রেশ করলে আপনার কম্পিটার স্লো হয়ে যায়।

এই রিফ্রেশ অপশন টি উইন্ডোজে কেন দেওয়া আপনি জানেন কি? এই রিফ্রেশ অপশন টি উইন্ডোজে দেওয়ার কারন অনেক সময় আপনার কম্পিটারে থাকা পিকচার, আইকন, এগুলি ঠিক ভাবে ভাবে সো করে না, ফলে আপনি যদি তখন আপনার কম্পিটার টি রিফ্রেশ করেন তাহলে, সেই কাঙ্খিত পিকচার ইমেজ বা আইকন যাই সো করছিলোনা সেটা সো করবে। ব্যাস এততুকুই আর কিছুই না।

তো আপনিও যদি আপনার উইন্ডোজ কম্পিটার অনেক বেশি রিফ্রেশ করে থাকেন তাহলে তা আজই বন্ধ করে দিন, এবং অপ্রয়োজনে বার বার কম্পিটার রিফ্রেশ করে আপনার কম্পিটারকে স্লো করা থেকে বিরত থাকুন।

ইমেজ ক্রেডিট; Alex Knight Via Unsplash

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *