ওয়েবসাইট স্পীড অপ্টিমাইজেশন — কিভাবে ওয়েবসাইট এর স্পীড বৃদ্ধি করবেন

ওয়েবসাইট-স্পীড-অপ্টিমাইজেশন-—-কিভাবে-ওয়েবসাইট-এর-স্পীড-বৃদ্ধি-করবেন

আপনার ওয়েবসাইট ব্লগ এর সফলতার মুল চাবি কাঠি হতে পারে, আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড। হ্যাঁ ভাই আপনার ওয়েবসাইট যদি অনেক ধির গতির হয় তবে অনেক আংশেই আপনার ওয়েবসাইট রেঙ্ক না করার সম্ভাবনা থেকে যায়।

গুগল এর ভাষ্যমতে আপনার ওয়েবসাইট যদি তিন সেকেন্ড এর থেকে অধিক সময় নিয়ে থাকে লোড হতে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভিসিটর ড্রপ করবে, এবং গুগল ও ধিরে ধিরে আপনার ওয়েবসাইট এর উপর থেকে তার নজর সরিয়ে নিয়ে।

তো মোড়াল অফ দা স্টোরি হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইট ব্লগ রেঙ্ক করাতে হলে, এবং আপনার ওয়েবসাইট যারা ভিজিট করে তাদের কে সুন্দর ও ইউজার ফেন্ডলি এক্সপিরিয়ান্স যদি দিতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড এর দিকে নজর দিতে হবে।

তাহলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুজতে পেরেছেন আজ কি নিয়ে কথা বলবো! আজ আপনার সাথে ওয়েবসাইট এর স্পীড কিভাবে বৃদ্ধি করবেন সেই বিষয় গুলা নিয়ে কথা বলবো। ওকে তাহলে এখন চলুন মেইন আর্টিকেলর দিকে মুভ করা যাক, সাথেই থাকুন…

ওয়েবসাইট স্পীড অপ্টিমাইজেশন

মূলত ওয়েবসাইট এর স্পীড এর দিকে অনেকেই আছে একটুও ধ্যান রাখে না, অনেকেই কেবল ওয়েবসাইট ডিজাইন সাথে অনেক ভারি থিম ব্যাবহার করে, ফলে ওয়েবসাইট এর স্পীড একদম কমে যায়। কিন্তু এই বিষয় টা নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না।

বাট এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় ভুল, একটা ওয়েবসাইট রেঙ্ক করানো থেকে শুরু করে ওয়েবসাইতে ইউজার দের ইউজার ফ্রেন্ডলি এক্সপিরিয়ান্স দেওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড এর দিকে ধ্যান রাখা উচিৎ।

ওকে তাহলে এখন চলুন কিভাবে ওয়েবসাইট এর স্পীড অপ্টিমাইজ করবেন জেনে নেওয়া যাক।

কিভাবে ওয়েবসাইট এর স্পীড বৃদ্ধি করবেন?

আমি আপনার সামনে ওয়েবসাইট স্পীড বৃদ্ধি করার সব গুলি পয়েন্ট তুলে ধরব, এবং আপনাকে পরিস্কার করে বুঝিয়ে দিবো, কিভাবে কি করলে ওয়েবসাইট এর স্পীড বৃদ্ধি করতে পারবেন।

১. হোস্টিং

আপনার ওয়েবসাইট এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে আপনার হোস্টিং, তাই আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড বৃদ্ধি করতে হলে সর্বপ্রথম যে বিষয় টিতে ধ্যান দিতে হবে টা হচ্ছে, আপনার ওয়েব হোস্টিং।

আপনি কোথা থেকে হোস্টিং নিছেন, এবং আপনি কি হোস্টিং প্লান ব্যাবহার করছেন সব কিছুই নির্ভর করে ওয়েবসাইট স্পীড অপ্টিমাইজেশনের ক্ষেত্রে। আমি আপনাকে হাইলি রিকমেন্ড করছি, আমাদের এই আর্টিকেল টি, আপনি এই আর্টিকেল থেকে বুঝে নিতে পারবেন ওয়েব হোস্টিং কি ও কত প্রকার, এবং এরপর আপনি আপনার জন্য সঠিক ওয়েব হোস্টিং বেছে নিতে পারবেন। ওয়েব হোস্টিং কি? হোস্টিং কেনার ঊপায়, দাম এবং প্রকার

২. থিম

আপনার হোস্টিং খুব ভালো নেওয়া সর্তেও কিন্তু অনেক সময় আপনার থিমের জন্য আপনার ওয়েবসাইট এর লোডিং স্পীড একদমই না এর বরাবর হয়ে যেতে পারে, কেননা অনেক সময় অনেক প্রিমিয়াম থিম ব্যাবহার করার ফলে আপনার ওয়েবসাইট অনেক ভারি হয়ে যায় ফলে আপনার ওয়েবসাইটের স্পীড ও কমে যায়।

এ জন্য সব সময় চেস্টা করুন বেছে শুনে লাইট ওয়েট থিম ব্যাবহার করার, এবং আপনি যদি প্রিমিয়াম থিম ব্যাবহার করতে চান, তাহলে আগে থেকে নিজে একটু বাছাই করার চেস্টা করুন যে, আপনি যে থিম টি ব্যাবহার করবেন সেই থিম টি ব্যাবহার করলে আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড কেমন হবে।

আপনার ওয়েবসাইটে কেমন থিম ব্যাবহার করবেন তার উপর আমাদের একটি ডিডিকেটেড আর্টিকেল আছে, আপনি এই আর্টিকেল টি পড়ে আসুন; তাহলে আপনি একটি পুরনাজ্ঞ ধারনা পেয়ে যাবেন, যে কেমন থিম ওয়েবসাইটে ব্যাবহার করতে হয়। আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য কেমন থিম ব্যবহার করা উচিৎ?

৩. সিডিএন

আপনি সিডিএন এর সাথে পরিচিত হয়ে থাকলে তো আপনি অবশ্যই জেনে থাকবেন সিডিএন এর ব্যাবহার কি! সিডিএন হচ্ছে কন্টনেট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক, এই সিডিএন কি? ও এই সিডিএন এর কাজ কি, জানতে এই আর্টিকেল টি পরে আসুন।

৪. কম্প্রেস ইমেজ সাইজ

আমি অনেকেই দেখি তারা ইমেজ কম্প্রেস না করেই, সরাসরি ইমেজ আপলোড দিয়ে দেয়, না এই ইমেজ কম্প্রেস না করার ফলে আপনার ওয়েবসাইট লোডিং স্পীড দিগুন বেড়ে যায়, তাই সব সময় চেস্টা করুন ইমেজ কম্প্রেস করে তারপর ওয়েবসাইটে আপলোড করার জন্য।

অনেক প্লাগিন আছে, যারা দাবি করে তারা অটো ইমেজ কম্প্রেস করে দেয়, তবে আমি তাদের থেকে ভালো কোন ফলাফল পাইনি, তো আপনি চাইলে অনলাইন অনেক ইমেজ কনভার্টার টুল আছে, সেই সব টুল গুলি ব্যাবহার করতে পারেন। পার্সোনালি আমি যে টুল টি ইউস করি ইমেজ কনভার্ট করতে, আপনিও চাইলে সেই টুল টি ব্যাবহার করে আপনার ইমেজ গুলা কনভার্ট করে নিতে পারবেন। ইমেজ কনভার্টার টুল

৫. ক্যাশিং প্লাগিন ব্যাবহার

ক্যাশিং প্লাগিন ব্যাবহার করার পূর্বে আপনি যেখান থেকে হোস্টিং নিয়েছেন তাদের কাছে জেনে নিবেন তারা আপনার কি সার্ভার দিয়েছে, লাইটস্পীড নাকি অ্যাপাচি সার্ভার। এখন যদিও সবাই লাইস্পীড সার্ভারই বেশি ব্যাবহার করে থাকে, তারপরেও আপনি ক্যাশিং প্লাগিন ব্যাবহার করার আগে একটু জেনে নিবেন।

এখন দেখুন মার্কেটে অনেক প্রিমিয়াম প্লাগিন ও আছে, আবার ফ্রী ও প্লাগিন আছে! কেমন হয় যদি আপনার সব কাজ ফ্রী প্লাগিন দিয়েই হয়ে যায়। ক্যাশিং প্লাগিন এর জন্য সব থেকে বেষ্ট হচ্ছে এখন দুটি প্লাগিন, একটা হচ্ছে WP ROCKET, অন্য একটি LiteSpeed Cache, আপনি যদি WP ROCKET প্লাগিন টি ব্যাবহার করতে চান তাহলে আপনাকে প্রতি বছর $49 খরচ করতে হবে।

কিন্তু আপনি এই WP ROCKET প্লাগিন টিতে যা কিছু পাবেন তার থেকে আরও কিছু বেশি পাবেন এই LiteSpeed Cache প্লাগিন টিতে, তাই আমি আপনাকে পরামর্শ দিবো যদি ক্যাশিং প্লাগিন ব্যাবহার করতেই হয় তাহলে LiteSpeed Cache প্লাগিন টি ব্যাবহার করুন।

এছাড়া মার্কেটে আরও অনেক ক্যাশিং প্লাগিন আছে, আপনি চাইলে সেগুলাও ব্যাবহার করতে পারেন। আপনার ওয়েবসার্ভার যদি লাইটস্পীড সার্ভার হয়ে থাকে, তাহলে আপনার জন্য বেস্ট ক্যাশিং প্লাগিন হবে LiteSpeed Cache, এবং আপনার ওয়েবসাইট স্পীড কয়েক গুন বৃদ্ধি করে দিবে একা এই প্লাগিন টি।

মূলকথাঃ

উপরে বর্ণীত সব গুলা স্টেপ যদি আপনি ঠিক ভাবে করেন, তাহলে ১০০% আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড অনেক বৃদ্ধি পাবে, এছাড়াও ওয়েবসাইট স্পীড বৃদ্ধি করতে গিয়ে কোন প্রবলেম ফেচ করলে, বা আমার কোন সাহায্য লাগলে আমাকে বলবেন, আমি আপনাকে হেল্প করবো। ধন্যবাদ এতো সময় সাথে থাকার জন্য, টা,টা!

হ্যাপি লার্নিং

ইমেজ ক্রেডিট; Pixabay Via Pexels

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *