বর্তমান তারিখ:August 12, 2020

এন্টিভাইরাস ছাড়া ল্যাপটপ বা কম্পিটার ব্যাবহারে কি হতে পারে?

এন্টিভাইরাস-ছাড়া-ল্যাপটপ-বা-কম্পিটার-ব্যাবহারে-কি-হতে-পারে

এই কিছুদিন আগেও আপনার কম্পিটার বেশ ফাস্ট এবং স্মুথ ভাবেই ওয়ার্ক করছিলো? কিন্তু আপনি রিসেন্টলি খেয়েল করছেন যে আপনার কম্পিটার/ ল্যাপটপ ঠিক আগের মত করে পারফ্রম করতে পারছে না, কিন্তু কেন? আমার কম্পিটারে কি ভাইরাস এর আগমন হল, নাকি অন্য কিছু হয়েছে?

ওয়েল, গল্প টা ভিন্ন এমনও হতে পারে আপনি ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে করতে নামি দামি/ “এডাল্ট” কোন ওয়েবসাইটে চলে গিয়েছেন, এবং সেখান থেকেই আপনার কম্পিটার/ ল্যাপটপে ভাইরাস বাবাজি এসে পড়েছে। আবার এমন ও হতে পারে আপনার কম্পিটারে আপনি কোন পেনড্রাইভ ইন্সটাল করেছিলেন এবং সেখান থেকেই আপনার কম্পিটারে ভাইরাস ঢুকে পড়েছে!

ওকে এখন কথা হচ্ছে এটা যে, আপনি কিভাবে বুজবেন যে আপনার কম্পিটারে ভাইরাস বাবাজি এসে পড়েছে? বা যদিও ভাইরাস বাবাজি এসে পড়ে তাহলে তাহাকে কিভাবে আপনার সিস্টেম থেকে রিমুভ করবেন? এবং যদি আপনি আপনার কম্পিটার ল্যাপটপে এন্টিভাইরাস ব্যবহার না করেন তাহলে আপনার কম্পিটারের সাথে কি কি হতে পারে… চলুন তাহলে এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাবেই দেওয়া যাক!

কিভাবে আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসতে পারে, বা এসে থাকে?

যদি আপনি আপনার কম্পিটার কে ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্ট না করেন অথবা আপনার কম্পিটারে বহিরাগত কোন পেনড্রাইভ ইন্সটাল না করেন, তাহলে ব্রো আপনি ১০০% সেভ। না আপনার প্রয়োজন পড়বে কোন এন্টিভাইরাস ব্যবহার করার, আর না আসবে আপনার কম্পিটারে কোন ভাইরাস।

কিন্তু,কিন্ত,কিন্তু আসলে গল্প তো তাহা নয়! আপনি তো আপনার কম্পিটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন এবং আপনার কম্পিটারে আপনি মাঝে মাঝেই বহিরাগত পেনড্রাইভ ইন্সটাল করবেন। ওকে, ব্রাদার এখন কথা হচ্ছে আপনি যদি আপনার কম্পিটার ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্ট করে থাকেন, ও বহিরাগত পেনড্রাইভ অনেক বেশি আপনার সিস্টেমে ইন্সটাল করে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই — অবশ্যই আপনার সিস্টেম জন্য একটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে।

অন্যথায় আপনার কম্পিটারে যে কোন সময় ভাইরাস এসে নক দিতে পারে। ওয়েল তাহলে চলুন দেখে আসি ভাইরাস কিভাবে আপনার কম্পিটারে আসতে পারে।

কিভাবে আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসতে পারে, বা এসে থাকে?

আপনি ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ আপনার মাথায় ভুত চাপল, আপনি “এডাল্ট” কোন ওয়েবসাইটে যাবেন, এবং যে কথা সেই কাজ আপনি চলেও গেলেন। ব্যাস, একটু দাড়ান ব্রো — কেল্লাফতে আপনি ভাইরাস কে আপনার কম্পিটারে প্রবেশ করবার জন্য ওয়েলকাম করে ফেলেছেন।

এই সব এডাল্ট ওয়েবসাইটে অনেক রকম ম্যালিসিয়াস কোড ইঞ্জেক্ট করা থাকে, বা এক প্রকার ভাইরাস থাকে। আর যখনি আপনি এসব টাইপ এর ওয়েবসাইটে যান তখনই আপনার কম্পিটারে সেই ভাইরাস গুলি প্রবেশ করে। ও তাদের কেরামতি দেখাতে শুরু করে দেয়।

এছাড়া আপনি যদি পাইরেটেড গেমস বা মুভি ডাউনলোড করতে অবস্ত থাকেন তাহলেও আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসার সম্ভাবনা অনেক টাই থেকে যায়। সম্ভব হলে এসকল পাইরেটেড ওয়েবসাইট বয়কট করুণ। আর হ্যাঁ যদি আপনি বুঝে থাকেন আপনি কি করছেন, বা এসকল পাইরেটেড ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার ফলে আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসতে পারে, ও আপনি সেই ভাইরাস এর মোকাবেলা করতে সক্ষম তাহলে আপনি ইন্টারনেটে যা ইচ্ছা, বা যে ওয়েবসাইটে যেতে মন চায় যেতে পারেন।

তবে হ্যাঁ, যদি আপনি এসকল “এডাল্ট ও পাইরেট সফটওয়্যার গেমেস” টাইপ এর ওয়েবসাইট ব্রাউজ না করে থাকেন আপনার কম্পিটার থেকে ,তাহলে আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসার সম্ভাবনা অনেক টাই নেই বললেও চলে।

মুলত এসকল ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার ফলেই আপনার কম্পিটার ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

বহিরাগত পেন ড্রাইভ ইন্সটাল করলে আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসতে পারে।

আপনি যদি প্রচুর বহিরাগত পেনড্রাইভ আপনার কম্পিটার ল্যাপটপে ইন্সটাল করে থাকেন তাহলেও আপনার কম্পিটার ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। কারন আপনি তো আর জানেন না যে সেই পেনড্রাইভ কোন ম্যালিসিয়াস কোড ইঞ্জেক্ট করা আছে কিনা।

তাই যদি আপনি না চান, আপনার কম্পিটার ভাইরাসে আক্রান্ত হোক তাহলে বহিরাগত পেনড্রাইভ কম্পিটারে ইন্সটাল করা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

কিভাবে বুজবেন আপনার কম্পিটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে?

হঠাৎ করেই যদি আপনি এমন কিছু উপলব্ধি করেন, যে আপনার কম্পিটার আগের তুলনায় অনেক বাজে পারফ্রম করছে। ভারি কোন টাস্ক না করা সর্তেও আপনার কম্পিটার হ্যাং করছে, বা স্লো করছে এবং অকারনেই আপনার ল্যাপটপ থেকে অনেক বেশি হিট নির্গত হচ্ছে, তাহলে ব্রাদার বুঝে নিবেন সামথিং ওজ রং — আপনার কম্পিটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন কিছুই করার নেই ভাইরাস রিমুভ করা ছাড়া।

কিন্তু কিভাবে ভাইরাস রিমুভ করবেন?

ওয়েল একারনেই তো আপনার কম্পিটারে একটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা উচিৎ ছিল, এখন বুঝুন কম্পিটারে এন্টিভাইরাস ব্যবহার না করার মজা। ওকে যাই হোক, এখন কথা এটাই আপনি কিভাবে আপনার কম্পিটার থেকে ভাইরাস রিমুভ করবেন?

দেখুন আপনি যদি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনার আর অন্য কোন থার্ড — পার্টি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করার অবশ্যকতা আছে বলে আমার মনে হয় না। কেননা উইন্ডোজ ১০ এর সাথে থাকা বিল্ড ইন এন্টিভাইরাস উইন্ডোজ ডিফেন্ডার যথেষ্ট পাওয়ার ফুল, ও যে কোন ধরনের ভাইরাস ডিটেক্ট করার মত ক্ষমতা তার আছে।

তো আপনি যদি উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার কারি হয়ে থাকেন তাহলে তো আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসা মাত্রই উইন্ডোজ ডিফেন্ডার সেই কাঙ্খিত ভাইরাস কে রিমুভ করে ফেলবে। কিন্তু আপনি যদি উইন্ডোজ ৭ বা উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি কিভাবে আপনার কম্পিটারে আসা ভাইরাস কে রিমুভ করবেন।

ওয়েল, যেভাবে রিমুভ করতে পারেন তা হচ্ছে প্রথমেই ভালো কোন পেইড এন্টিভাইরাস আপনার সিস্টেমে ইন্সটাল করতে হবে। তারপর সেই ইন্সটাল করা এন্টিভাইরাস দিয়ে আপনার সিস্টেম কে স্ক্যান করতে হবে, এবং তারপর কি করতে হবে সেই প্রসেস আপনাকে এন্টিভাইরাসই বলে দিবে।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে, নতুন করে আবার আপনার সিস্টেমে উইন্ডোজ ইন্সটাল করা। আর সম্ভব হলে ফুল হার্ড ডিস্ক ধরেই ফরমেট করে নতুন করে উইন্ডোজ দেওয়া। তাহলে আপনার কম্পিটার থেকে ভাইরাস চলে যাবে। আর হ্যাঁ তারপর ভালো কোন পেইড এন্টিভাইরাস ব্যবহার শুরু করবেন আপনার সিস্টেম এর জন্য — ভাইরাস থেকে আপনার সিস্টেম কে বাঁচানর জন্য।

আর যদি আপনি একটি ভালো পেইড এন্টিভাইরাস এফোর্ট না করতে পারেন তাহলে, ফ্রী অনেক এন্টিভাইরাস আছে সেই সকল এন্টিভাইরাস ট্রায় করতে পারেন, অথবা উইন্ডোজ ব্যবহার শুরু করতে পারেন। আর যদি আপনার আমার মত উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করতে মোটেও ভালো না লাগে তাহলে একবার লিনাক্স ট্রায় করে দেখতে পারেন।

বলে রাখি লিনাক্স ও ম্যাকে কিন্তু উইন্ডোজ এর তুলনায় ভাইরাস এর আক্রমন অনেক অনেক কম হয়ে থাকে। কেননা লিনাক্স ও ম্যাক এর ইউজার – উইন্ডোজ এর ইউজার এর তুলনায় অনেক কম। ফলে যারা ভাইরাস তৈরি করে থাকে তাদের টার্গেট থাকে উইন্ডোজ ইউজারগন।

এন্টিভাইরাস ছাড়া কম্পিটার ল্যাপটপ ব্যবহার করলে কি হবে?

এখন কথা বলা যাক, কি হবে যদি আপনি কোন রকম কোন এন্টিভাইরাস ছাড়া কম্পিটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন? উপরে বর্ণিত কথা থেকে হয়তবা আপনি কিছুটা বুজতে পেরেছেন যে ঠিক কি হবে – বা হতে পারে আপনার কম্পিটার এর সাথে যদি আপনি কোন রকম এন্টিভাইরাস ছাড়া কম্পিটার ব্যবহার করেন। ওয়েল, আমি আরও একটু ক্লিয়ার করে বুঝিয়ে বলছি ঠিক কি হতে পারে আপনার কম্পিটার এর সাথে যদি আপনি আপনার কম্পিটার এন্টিভাইরাস ছাড়া ব্যবহার করেন।

প্রথমেই বলে রাখি আপনি যদি কোন “এডাল্ট ওয়েবসাইটে” বা কোন “পাইরেটেড ওয়েবসাইটে” না যান, তাহলে আপনার কম্পিটারে কোন রকম কোন ভাইরাস এর আগমন হবে না, আর যদি এসকল টাইপ এর ওয়েবসাইটে যান তাহলে আপনার কম্পিটারে অবশ্যই ভাইরাস আসবে।

আর ভাইরাস আসা মানেই, আপনার কম্পিটার অনেক বাজে ভাবে পারফ্রম করবে ও অনেক স্লো কাজ করবে। এছারাও আপনার কম্পিটারের সম্পূর্ণ আক্সেস অন্য কেউ পেয়ে যাবে, অর্থাৎ যে বা যারা ভাইরাস টি তৈরি করেছে এবং আপনার কম্পিটার যদি সেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে আপনার কম্পিটারের সম্পূর্ণ আক্সেস সেই ভাইরাস তৈরি কারির হাতে চলে যাবে।

এবং তখন সে আপনার সিস্টেম কে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে, ইভেন আপনার কম্পিটারে থাকা সব কিছুতেই সে আক্সেস পেয়ে যাবে ও সে আপনার কম্পিটার এর পাওয়ার ইউজ করে “বিটকয়েন মাইনিং” থেকে শুরু করে অনেক বাজে কাজ ও করতে পারে।

মুল কথা — উইথ আউট এন্টিভাইরাস আপনার কম্পিটার ঠিক ভাবে সিকিওর না, আপনি যদি কোন এন্টিভাইরাস ছাড়া আপনার কম্পিটারে “এডাল্ট ওয়েবসাইট, পাইরেটেড ওয়েবসাইট” ভিজিট করেন তাহলে আপনার কম্পিটার কে ভাইরাস এর হাত থেকে কোন ভাবেই বাঁচানো পসেবল না।

আর হ্যাঁ কি হবে যদি আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার না করে থাকেন আপনার কম্পিটারে? তাহলে কি আপনি কোন এন্টিভাইরাস ছাড়া আপনার কম্পিটার নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন?

হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ — যদি আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার না করে থাকেন আপনার কম্পিটারে, তাহলে আপনি একদম নিশ্চিন্তে আপনার কম্পিটার কোন রকম এন্টিভাইরাস ছাড়াই ব্যবহার করতে পারেন। ধরেন যদিওবা আপনার সিস্টেমে কোন ভাইরাস এসে নক দেয়, তারপরেও সেই ভাইরাস আপনার তেমন কিছুই করতে পারবেনা। কেননা আপনার কম্পিটার তো আর ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেড না।

সো আপনি নিশ্চিন্তে আপনার কম্পিটার ব্যবহার করতে পারেন। এবং যদিওবা আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার না করা সর্তেও আপনার সিস্টেমে ভাইরাস এসে থাকে কোন পেনড্রাইভ বা অন্য কোন ওয়েতে তাহলেও আপনার তেমন কিছুই হবে না। জাস্ট এতোটুকু হতে পারে আপনার সিস্টেম/ অপারেটিং সিস্টেম ক্রাশ করতে পারে। ব্যাস আর কিছুই হবে না…

আমি আবারও বলছি, আপনি যদি আপনার কম্পিটারে ইন্টারনেট ব্যবহার না করেন; তাহলে আপনার কম্পিটারে কোন এন্টিভাইরাস ব্যবহার না করলেও কিছু হবে না। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট এর সাথে আপনার কম্পিটার কে কানেক্টেড রাখেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই কোন পেইড এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় আপনার কম্পিটারে ভাইরাস আসার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

ইমেজ ক্রেডিট; Gerd Altmann Via Pixabay

আপনিও কি আমার মত টেক পোকা? আপনারও কি নতুন নতুন টেকনোলজি বিষয়ে জানতে ভালো লাগে? তাহলে বন্ধু আপনি একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন, কেননা আমি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন টেক বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করি, এবং টেকনোলজির জটিল টার্ম গুলিকে আপনাদের সামনে জলের মত সহজ করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *